লুটের অস্ত্রেই লুটপাট

চট্টগ্রামে লুটের অস্ত্রেই চলছে লুটপাট। নগর থেকে উপজেলা— সবখানে লুটের অস্ত্রেই বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করছে অপরাধীরা। ইতোমধ্যে অস্ত্রসহ পুলিশের জালে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজন অপরাধী। তাদের কেউ নগরের কোতোয়ালী থানা থেকে লুটের অস্ত্রে, আবার কেউ পাহাড়তলী থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রে চালিয়েছে লুটপাট।

লুটের অস্ত্রে লুটপাটে ভয় বাড়ছে জনমনে। পুলিশ বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি এখন অপরাধীদের হাতে। এসব অস্ত্র দিয়ে তারা ব্যবহার করছে নানা অপরাধে। বিভিন্ন ঘটনায় এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

গত ৩ মার্চ রাতে সাতকানিয়া উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে মো. নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও মো. সালেক (৩৫) নামে দুযুবক গণপিটুনিতে প্রাণ হারান। উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নিহত দুজনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে বলেছিল, একটি সালিসের কথা বলে তাঁদের ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম তখন সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, মৃত্যুর আগে নেজামের পিস্তল দিয়ে চালানো গুলিতে স্থানীয় এক দোকানিসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। যে পিস্তল দিয়ে নেজাম গুলি করেছিল তা নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট করা।

গত ১৭ এপ্রিল নগরের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র-গুলিসহ আরিফ হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় পুলিশ জানায়, লুটের এই অস্ত্র-গুলি দিয়েই নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি করতো আরিফ।

গত ২৭ ও মে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার হন মো. পারভেজ (২৫) ও রিয়াজুর রহমান (২২)। এ সময় তাদের কাছে পাওয়া যায় রিভলবার ও গুলি। এই সেই অস্ত্র যা নগরের পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। লুটের অস্ত্র দিয়ে লুটপাট করার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করে পারভেজ—রিয়াজুর।

গত ১৭ জুন একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুটি গুলিসহ কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রুবেলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় পুলিশ জানায়, রুবেলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র লুট করা হয়েছিল নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে।

গত ১৯ জুন নগরের জেলেপাড়া রানী রাসমণিঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাইদুর রহমান মাসুম ওরফে রেড মাসুম। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, চট্টগ্রামের বড় একটি সন্ত্রাসী চক্রের প্রধান মাসুম। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি নগরের পাহাড়তলী থানা থেকে লুট করা। এই অস্ত্র দিয়েই মাসুম ও তাঁর সহযোগীরা ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ করতো।

এদিকে গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া সাত শতাধিক বন্দীও এখনো ধরা পড়েনি। অথচ সামনেই জাতীয় নির্বাচন। একদিকে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি, অন্যদিকে জেল পালানো অপরাধী— সবমিলিয়ে সামনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় সচেতন মহল।

তবে পুলিশের দাবি, লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগই উদ্ধার হয়ে গেছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে চলছে অভিযান। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্র-গুলির কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি, বক্সসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট-স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা-পুলিশের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি। এ সময় ৫ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৩২টি। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে— এসএমজি, এলএমজি, বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, বিভিন্ন বোরের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড।

চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত অভিযানে ৪ হাজার ৩৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ১১২টি। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭২০টি গোলাবারুদ।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm