আসছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। কোরবানি ঈদ ঘিরে রাউজান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে গেছে গরু বিক্রি। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু এনে বিভিন্ন স্থানে মজুত করছেন। পিছিয়ে নেই ক্ষুদ্র খামারিরাও।
জানা গেছে, রাউজানে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৭ হাজার ৩০২টি। এখানকার চারশ ডেইরি ফার্মে প্রায় ৩৫ হাজার ৭০৩টি গরু, ছাগল ও মহিষ রয়েছে খামারিদের। চাহিদার তুলনায় ১ হাজার ৫৯৯টি পশু কম। পাশাপাশি কৃষকরাও নিজেদের গৃহে লালন-পালন করা গরু-ছাগল মোটাতাজা করে রেখেছেন। এবার ভালো দামে পশু বিক্রির আশায় বুক বেঁধেছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষকরা।
এদিকে রাউজানে বিভিন্ন এলাকায় হাট-বাজারে কোরবানির পশুর হাট বসতে শুরু করেছে। ক্রেতারাও এসব হাটে ভিড় করতে শুরু করেছেন।
জানা যায়, রাউজানে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ১৬ হাটে গরু-ছাগল ও মহিষ বেচাকেনা হয়। এসব কোরবানির পশুর হাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরু বেচাকেনা হয় পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গফুর আলী বোস্তামী চারাবটতল বাজার, গহিরা কালচান্দ চৌধুরী হাট, সদর ফকির হাট, পাহাড়তলী পিংক সিটি, বাগোয়ানের লাম্বুর হাট, খেলার ঘাট ও নোয়াপাড়া চৌধুরীহাটে। তবে এসব হাটে পাহাড়ি অঞ্চলের গরু এবং কৃষকদের গৃহপালিত গরু-ছাগলের চাহিদা থাকে বেশি।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে কোরবানিতে টার্গেট ৩ লাখ চামড়া, লবণে আশার আলো
এদিকে ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের রমজান আলী হাট, নাতোয়ান বাগিচা, কদলপুর ইউনিয়নের সোমবাইজ্যার হাট, ঈশান ভট্টের হাট, হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা দরগাহ ছড়ি বাজার, আমির হাট, বইজ্যার হাট, ফকির টিলা বাজার, জানিপাথর বাজার, ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা মুছা শাহ বাজার, নোয়জিশপুর ইউনিয়নের নতুন হাট, ফতেহ নগর বাশডুয়া তল বাজার, ইন্দিরা ঘাট, রাউজান পৌরসভার জানালী হাট, পাহাড়তলী ইউনিয়নের গৌরি শংকর হাট, বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি নয়া হাট, খেলার ঘাট বাজার, নোয়পাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন মিয়া আলী চৌধুরী হাট, উরকিরচর ইউনিয়নের মদুনাঘাট জিয়া বাজার, আলামিয়া হাট, কেরানীহাট, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই পিকে সেন হাট, রঘুনন্দন চৌধুরীহাট, কাগতিয়া হাটসহ বিভিন্ন স্পটে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ ও ছাগল বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনে ট্রাকে করে এনে মজুদ করছেন।
রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোফসেল হায়দার বলেন, রাবার বাগান এলাকার ডেইরি ফার্মে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের ৩০০ গরু রয়েছে। এসব গরু ফার্ম থেকে বিক্রি করা হবে।
গত ১৮ মে চট্টগ্রাম জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে অনুমোদিত বাজার ব্যতীত যত্রতত্র গরুর বাজার বসাতে পারবে না। কোরবানির পশুর কোনো ধরনের রোগ আছে কিনা তা যাচাইয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টিম সার্বক্ষণিক বাজারে থাকবে। সড়ক ও মহাসড়কের উপর বাজার বসতে পারবে না। পশুর বাজার ঘিরে কোনো ধরনের যানজট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। স্কুল, কলেজ, ও মাদ্রাসার মাঠে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিসান বিন মাজেদসহ চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।
জানতে চাইলে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মর্কা জয়িতা বসু আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, রাউজানে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৭ হাজার ৩০২টি । এর বিপরীতে ছোট-বড় চারশ ডেইরি ফার্মে খামারিরা ৩৫ হাজার ৭০৩টি পশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গরু ২৪ হাজার ৭৮৮টি, মহিষ ২ হাজার ৭৭০টি, ছাগল ৬ হাজার ৪২৪টি এবং ভেড়া ১ হাজার ৭১১টি। চাহিদার মধ্যে ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ৫৯৯টি পশু।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ভেটেরিনারি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
যোগাযোগ করা হলে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, রাউজানে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


