‘মৃত্যু ঘিরে রহস্য’ চট্টগ্রামের কলেজ শিক্ষক লাশ হলো ঢাকায়, পুলিশের লুকোচুরি

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় লাশ হলো পটিয়া সেন্ট্রাল কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম আকাশ (৩৫)। তবে এ মৃত্যু ঘিরে দুর্ঘটনাস্থলসহ নানা বিষয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে টাকা দিয়ে পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিক সমিতির বিরুদ্ধে।

নিহত নজরুল ইসলাম আকশের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায়।

জানা যায়, শুক্রবার (২৬ আগস্ট) ভোরে পটিয়া সেন্ট্রাল কলেজের শিক্ষক নজরুল ইসলাম আকশ সিডিএম ট্রাভেল্সের একটি বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে নামলে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা বাস তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আকাশের কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন পরিবহন মালিক সমিতির লোকজন। তাদেরকে লাঞ্ছনার পাশাপাশি এ বিষয়ে থানায় না জানানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে নিহত আকাশের পরিবারকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সায়েদাবাদ পরিবহন মালিক সমিতির বিরুদ্ধে। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থল নিয়ে তথ্য বিভ্রাটেরও আশ্রয় নেয় মালিক সমিতির লোকজন।

সিডিএম ট্রাভেলে যোগাযোগ করা হলে লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে মো. জামাল নামে একজন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি সকালের শিফটে দায়িত্বরত ছিলাম। চট্টগ্রাম থেকে একটি বাস ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে আসে। তখন বাসে একজন আহত ব্যক্তি ছিল। এ সময় সিডিএম পরিবহন মালিক সমিতির লোকজনসহ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপস্থিত হন। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

আকাশ বাসে আহত অবস্থায় কোথা থেকে এসেছে এবং তাকে সায়েদাবাদ থেকে কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা জানতে চাইলে লাইনম্যান পরিচয় দেওয়া জামাল এ প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হইয়ে যান এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন।

একপর্যায়ে লাইনম্যান পরিচয় দেওয়া সেই জামাল নিজেকে বাসের মালিক পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমি একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। অনেকগুলো বাসের নানা বিষয় আমাকে দেখতে হয়। একজন মারা যেতেই পারে, এটা ছোটখাট বিষয়। কখন, কোথায় কী হয়েছে তা ফাঁড়ির ইনচার্জ জানে, তার সাথে কথা বলেন।

এদিকে সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আব্বাসের মাধ্যমে মামলা ছাড়াই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিক সমিতির বিরুদ্ধে। এসআই আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, দুর্ঘটনাটি সায়েদাবাদে ঘটেনি, এটি ঘটেছে কুমিল্লার গৌরিপুরে। সেখান থেকে একই বাসে করে ঢাকা নিয়ে আসলে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডেই তার মৃত্যু হয়। আমরা সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। এরপর পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে নিহতের স্ত্রী আসেন। তিনি মামলা বা আইনি জটিলতা ছাড়াই লাশ বাড়ি নিয়ে যেতে চেয়েছেন। নিজের স্ত্রী মামলা করতে না চাইলে তো আমি মামলা করাতে পারব না।

এসআর/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm