ভিসি বদলে উত্তাল চুয়েট

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য পদে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে তিনি উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চার বছরের জন্য চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরদিন ২৮ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদমাধ্যমকে ড. সায়েম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন তিনি আর চুয়েটের উপাচার্য পদে নেই। কেন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও আগে অবহিত করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আগের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বহাল রাখার দাবিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী বের হয়ে মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি ভিসি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিসি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। আগের উপাচার্যকে পুনরায় বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পরবর্তী কর্মসূচি লিখিতভাবে জানানো হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ১২টার দিকে তারা হলগুলোতে ফিরে যান। চুয়েটে ভিসি অপসরাণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে এ কর্মসূচি শুরু করা হয়। দিনের শুরুতে চুয়েটের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। মূল ফটক তালা দিয়ে তারা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’, ‘ভিসির চেয়ার কারে চায়, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’, ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগানে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থী যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাকিব হাসান বলেন, উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্যারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভ শেষে তারা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করেন।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm