বিএনপি নেতা চাচাকে খুন করে পালিয়ে গেল জামায়াতের ভাতিজা

মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা চাচাকে খুন করেছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ভাতিজা। ভাতিজা মো. হেলালের (৩৭) হাতে চাচা আবুল কালামের (৫৭) খুনের নেপথ্যে জায়গা-জমির বিরোধ।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার ফজলে রহমান বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবুল কালাম ওই বাড়ির ফজলে রহমানের চতুর্থ সন্তান এবং অভিযুক্ত হেলাল নিহত আবুল কালামের বড় ভাই মৃত তাহের আহম্মদের ছেলে। আবুল কালাম ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র বিএনপি নেতা। অপরদিকে ভাতিজা হেলাল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে জানা গেছে।

জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে জায়গা মাপার কথা ছিল। এর আগে চাচা আবুল কালামের সঙ্গে ভাতিজা হেলাল বাকতিণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে ভাতিজা ইট দিয়ে চাচার মুখ থেঁতলে দেয়। এতে চাচা আবুল কালাম গুরুতর আহত হলে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে ভাতিজা হেলাল পলাতক রয়েছে।

নিহতের বড় ভাই আবুল খায়ের বলেন, সোমবার সকালে জায়গা মাপার কথা ছিল। মূলত জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আমি ঘরে ছিলাম। পরে শুনতে পাই, চাচা-ভাতিজার মারামারি হয়েছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি, ভাইয়ের অবস্থা খারাপ। তাকে উদ্ধার করে মস্তাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দুপুর ১টার দিকে ভাই মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার বড় ভাইয়ের ছেলে হেলাল কেন এমন করলো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাখী বণিক বলেন, সকাল ৯টায় গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল কালাম (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, নিহত আবুল কালাম এ ওয়ার্ডের বিএনপির সিনিয়র নেতা ছিলেন। তিনি প্রায়সময় আমাদের বলতেন, তার জামায়ত সমর্থক ভাতিজা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছে। আমরা এ বিষয় নিয়ে বসার কথা ছিল। এর আগে নির্মমভাবে তাকে খুন করা হলো। আমরা এই খুনের বিচার চাই।

যোগাযোগ করা হলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় সোমবার সকালে ভাতিজা মো. হেলালের ইটের আঘাতে চাচা আবুল কালামের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হেলাল পলাতক রয়েছে। তাকে আটকে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহত আবুল কালামের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। আইনগত পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এএ/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm