চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলা ৭২ ঘণ্টা না যেতেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিকে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করে তদন্ত কর্মকর্তা বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ফটিকছড়ি থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিবাদকারীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও এলাকাবাসীর বাড়িতে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন আসামিরা। গত ১৮ জুলাই বিকেলে ফটিকছড়ি থানার নাজিরহাট পৌরসভার ঝংকার মোড় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে হামলা হয়। এসময় আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, রামদা, ছুরি, লাঠি, হকিস্টিক নিয়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে চালানো হয় গুলি। এসময় এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করা হয়। ককটেল ফাটিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ ও ছাত্র-জনতাকে গুরুতর জখম করে। এতে মামলার বাদী ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন : সাতকানিয়ায় জসিমের মানববন্ধন ‘নাটক’—নেপথ্যে খুনের মামলা
মামলার অভিযোগে উল্লেখিত দ্বিতীয় ঘটনার দিন অর্থাৎ ৪ আগস্ট একই এলাকায় সকালে বাদীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত অবস্থায় ফের হামলা করে মামলার আসামিরা। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় আসামিরা। সেদিন ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করে তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা আহত হন। এছাড়া দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় মামলা হয় গত ২১ অক্টোবর। পরদিন ২২ অক্টোবর ইকবাল হোসেন শাহেদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এছাড়া মামলা প্রত্যাহারের দিনেও মো. আলমগীর নামে অন্য এক আসামিকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল চাকমা।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি (৩৫), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মুহুরী (৫৬), হোসাইন মো. আবু তৈয়ব (৫৫), ইসমাইল হোসেন (৫৫), নাজিরহাট পৌরসভা যুবলীগ সভাপতি মো. হাসান (৩৫), মো. জামাল (৩৩), রায়হান রুপু (৩০), রিয়াদ আজিজ (৩২), মো. শহিদ (৪০), শহিদ মেম্বার (৪৫), কিং সাহেদ (২৮), উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি মেজবাহ উদ্দিন (৩০), উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম (৩২), আশরাফুজ্জামান সাকিল (৩২), ইকবাল হোসেন শাহেদ (৪৫), সুমন (২৮), আবুল হোসেন (২৮), পৌরসভা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক (৪৮), পৌরসভা আওয়ামী লীগেে সহসম্পাদক কামাল উদ্দিন (৪০), মো. ওবাইদুল গনি (৪৫), মো. মুরাদ (২৪), মো. কাঞ্চন (৩৫), মো. শফিউল আলম (৩০), সাদেক আলী শুভ (৩২), মো. মিরাজ (৩৫), মো. বাহাদুর গনি (৪০), সিরাজ (৩৫), টিপু সুলতান(২৮), সরোয়ার (৫২), মো. ফরহাদ রুবেল (২৮), মো. নাজিম উদ্দিন নাজু (৪২), সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন (৪০), আমজাদ হোসনে আজম (৫০), সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজমিম তাজিত (২২), মো. ইব্রাহীম (৩২), মো. মামুন (২৮), মো. করিম (৩৯), মু. কোরবান আলী (৩০), ইদ্রিস (৪৮) ও ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রাহুলসহ (২৯) অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ জন।
এদিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
মামলার আসামি শফিউল আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর বিতর্কিত মসজিদ কমিটি বাতিল করায় সেই কমিটির সাবেক সভাপতি নুরুল আযম আমাদের নাম যুক্ত করেছে এ মামলায়।
একই মামলার আসামি ফরহাদ রুবেল বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে কথা বলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি কারো নাম বলতে চাননি।
মামলা প্রত্যাহারে বিষয়ে বাদী কুরবান আলী বলেন, আমি একজন ছাত্র।অনার্স শেষ করেছি। পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বসহ নানা কারণে এ মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী জহির উদ্দিন পারভেজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনি কী করে জানলেন? এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান।
আরএস/আলোকিত চট্টগ্রাম


