পর্দা নামল উৎসবের, পতেঙ্গায় জনস্রোত

উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এবার দেবী ঘোড়ায় চড়ে ফিরে গেলেন কৈলাসে। সঙ্গে ছিলেন গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী।

রোববার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রে শুরু হয় বিসর্জন। পতেঙ্গা ছাড়াও কর্ণফুলী অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও কাট্টলীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

এদিকে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বন্দরনগরী ছিল উৎসবমুখর। আজ ছিল সরকারি ছুটিও। ছুটির দিনে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিসর্জন দেখতে সৈকতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। এসময় লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও আসে সৈকতে।

আরও পড়ুন: উৎসবের মাঝে বিদায়ের সুর

সরেজমিন দেখা গেছে, দুপুর থেকে ঢোলের বাদ্য, জয় মা দুর্গা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। বেলা বাড়তেই সৈকত এলাকায় বাড়তে থাকে প্রতিমাবাহী সারি সারি ট্রাকের লাইন। ট্রাক সৈকতে ঢুকার আগেই নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করা হয়। এসময় ঘোষণা মঞ্চ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল গাড়ির সাউন্ড বন্ধ রাখতে এবং প্রতিমা দ্রুত নামিয়ে বিজর্সন শেষ করতে। এরপর ট্রাক সাগর পাড়ের কাছে গিয়ে প্রতিমা নামিয়ে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সৈকতে।

এদিকে বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে পতেঙ্গা সৈকতসহ ১৬ থানা এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা। পুলিশ, র‌্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

পঞ্জিকা মতে, গত ৯ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে পালকিতে চড়ে এই মর্ত্যধামে ভক্তদের মাঝে আসেন দেবী দুর্গা। এরপর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও আজ বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো পাঁচদিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।

অন্যদিকে আজ সকাল থেকে পূজা মণ্ডপগুলোতে বিদায়লগ্নের বিষণ্ণতা থাকলেও আনন্দেরও কমতি ছিল না। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে ছিল বিদায়ের প্রস্তুতি।

এদিন বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার কপালে দেন সিঁদুর, মুখে দেন পান-মিষ্টি এবং চুলে তেল। স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীরা ১০৮ বার শ্রীশ্রী দুর্গা লেখা চিরকুট গুজে দেন দেবীর হাতে। এরপর নারীরা একে অন্যকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে মিষ্টিমুখ করান এবং আনন্দে মেতে উঠেন।

আরও পড়ুন : শুধু বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

পঞ্জিকা মতে, এবার তিথির কারণে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) একইদিন অষ্টমী ও নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী তিথি ছিল সকাল ৬টা ৫ মিনিট থেকে ৬টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় সন্ধিপূজা। এরপর নবমী তিথির সূচনা হয়। ফলে শনিবার নবমীর অধিক পূজার পাশাপাশি দশমী পূজা করা হয়।

রাত ৮টার দিকে যোগাযোগ করা হলে মহানগর পূজা পরিষদের অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ পর্যন্ত পতেঙ্গা সৈকতে ৭১টি, কালুরঘাটে ৩১টি ও অভয়মিত্র ঘাটে ৪০টি প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। তবে কালুঘাটে প্রতিমাবাহী গাড়ির লাইন আছে। সেখানে আশপাশের উপজেলার প্রতিমাও বিসর্জনা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে মহানগরের কয়টি আছে সেটি সঠিকভাবে বলতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, ভাটার কারণে অভয়মিত্র ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন আপাতত বন্ধ রয়েছে। জোয়ার এলে পুনরায় শুরু হবে। প্রতিমাবাহী অনেক গাড়ি লাইনে রয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে বিসর্জন সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, এবার চট্টগ্রাম নগরের ১৬ থানায় ২৯২টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। এছাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৫৯৪টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা ও ৫২৮টিতে হয় ঘট পূজা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm