চট্টগ্রামে মৃত্যু—আক্রান্তে জুলাইয়ে ‘ভয়ঙ্কর’ ডেঙ্গু

চট্টগ্রামে জুলাইয়ে ‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু। এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি। আবার সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুও হয়েছে এই জুলাইয়ে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৫৯ জন। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়েই আক্রান্ত হয়েছে ৩১৪ জন! অপরদিকে এ পর্যন্ত যে ৬ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ৪ জনই মারা গেছে চলতি জুলাইয়ে!

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১২ জন। আক্রান্তদের সবাই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ৩ জন শিশু।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন : ডেঙ্গু কেড়ে নিল তরুণীর প্রাণ

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৫৯ জনের মধ্যে ৩৫১ জন নগরের এবং ৪০৮ জন উপজেলার বাসিন্দা।

এর আগে গত জুনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১৭৬ জন, মে’তে ১১৬ জন, এপ্রিলে ৩৩ জন, মার্চে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮ জন এবং জানুয়ারিতে ৭০ জন। আর চলতি মাসের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, ৩১৪ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৫৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৪১৭, নারী ২২০ এবং শিশু ১২২ জন। মারা যাওয়াদের ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। এদের মধ্যে একজন জানুয়ারিতে, ১ জন এপ্রিলে এবং ৪ জন জুলাইয়ে মারা যান।

সর্বশেষ ডেঙ্গুতে মারা যান দুজন। এদের মধ্যে একজন তরুণী ও একজন যুবক। সুমাইয়া জান্নাত (২০) নামের ওই তরুণী গত ১ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হন। লোহাগাড়া উপজেলার এই তরুণী গত ২৩ জুলাই দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিন হোসাইন (২৭) নামে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা। গত ২৩ জুলাই তিনি চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে করোনা—ডেঙ্গুতে নারীর চেয়ে বেশি আক্রান্ত পুরুষ

এদিকে নগরের চেয়ে ডেঙ্গু রোগী বেশি উপজেলায়। বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ড এ দুপজেলায় সেঞ্চুরি পার হয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, উপজেলায় আক্রান্ত ৪০৮ জনের মধ্যে লোহাগাড়ায় ৩৪ জন, সাতকানিয়ায় ৩০ জন, বাঁশখালীতে ১১৮ জন, আনোয়ারায় ২৮ জন, চন্দনাইশে ৭ জন, পটিয়ায় ১১ জন, বোয়ালখালীতে ৭ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৭ জন, রাউজানে ১৫ জন, ফটিকছড়িতে ৬ জন, হাটহাজারীতে ৯ জন, সীতাকুণ্ডে ১০৮ জন, মিরসরাইয়ে ১০ জন, কর্ণফুলীতে ৩ জন এবং সন্দ্বীপ উপজেলায় ১৫ জন।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm