পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি ও ১০ থেকে ১৪ বছরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বিনামূল্যে হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়া হবে। আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে এটি শুরু হবে। চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এটি পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)।
এর আগে ২০২৩ সালে অক্টোবরে ঢাকায় এ টিকার নিবন্ধন শুরু হয়। প্রথম দফায় শুধু ঢাকা বিভাগে এই টিকা দেওয়া হয় কিশোরীদের।
আরও পড়ুন : করোনা : প্রতিবছর নিতে হবে টিকা!
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী একটি ভাইরাস। প্রাণঘাতী জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ। এ টিকা এক ডোজই যথেষ্ট। এই টিকা কিশোরীদের মাঝে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
গবেষণার প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর মধ্যে জরায়ুর মুখ ক্যানসার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০২০ সালের গ্লোবোক্যান প্রতিবেদন অনুসারে, জরায়ুমুখের ক্যানসারে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বছরে নতুন করে আক্রান্ত হন ৮ হাজার ২৬৮ জন। বছরে মারা যান ৪ হাজার ৯৭১ জন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিভাগ ছাড়া চট্টগ্রামসহ ৭টি বিভাগের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি ও ১০ থেকে ১৪ বছরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহির্ভুত কিশোরীদের বিনামূল্যে এক ডোজ এইচটিভি টিকা দেওয়া হবে। টিকা নেওয়ার জন্য https://vaxepi.gov.bd/registration ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। তবে যাদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ নেই, তাদেরও বিশেষভাবে তালিকাভুক্ত করে টিকা দেওয়া হবে। নিবন্ধন করে সংগ্রহ করতে হবে টিকা কার্ড। সেই কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গেলে মিলবে টিকা।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় মাসব্যাপী চলবে এ টিকাদান কর্মসূচি। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এবং জন্মনিবন্ধনবিহীন কিশোরীদেরকে হোয়াইট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের প্রথম ১০ দিন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রসমূহে এবং পরবর্তী ৮ দিন স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রসমূহে টিকা দেওয়া হবে।
জেলার ১৫ উপজেলার ৪ হাজার ৩৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩০ জন কিশোরী ও স্কুল বহির্ভূত কমিউনিটির ৭ হাজার ৫১৮ জন কিশোরীসহ মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ জন এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কিশোরীকে এইপিভি টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : দ্রুত ছড়ায় ওমিক্রন—কমায় টিকার কার্যকারিতাও
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) আমাদের একটি অ্যাডভোকেসি সভা হয়েছে। আমাদের টিকাদান কর্মসূচি চলবে ২৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। ২৩ অক্টোবরের মধ্যে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বাদ পড়ে তারা পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। বিভিন্ন স্কুলসহ অস্থায়ী কেন্দ্রসমূহে এ টিকা দেওয়া হবে। তবে টিকা দিতে হলে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা কার্ড অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। কোনো কিশোরী যাতে এ টিকা থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে। এ ক্যাম্পেইন সফল করতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, নিরাপদ ও কার্যকর। এক ডোজ এইচপিভি টিকা নিলে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধ করা যাবে। বাংলাদেশে প্রতিবছর হাজার হাজার নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। এবারের লক্ষ্য হলো ৯৫ শতাংশ কিশোরীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। এইচপিভি ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ৯০ শতাংশ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এদিকে টিকা নিবন্ধনে দেওয়া হয়েছে ৬টি নিদের্শনা। এসব মেনে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনাসমূহ হলো :
১) রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১০-১৪ বছর বা পঞ্চম-নবম শ্রেণির কিশোরী অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
২) কোনো অবস্থায় শিক্ষক, এনজিও কর্মী, কম্পিউটারের দোকান, স্বাস্থ্য কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে না।
৩) মোবাইলে আসা ওটিপি নম্বর কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না।
৪) রেজিস্ট্রেশন করতে শিক্ষক, স্বাস্থ্য সহকারী বা কম্পিউটার দোকানদার, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সহযোগিতা নিতে পারেন। কিন্তু মোবাইল নম্বর টিকা গ্রহণকারীর অভিভাবকের হতে হবে।
৫) টিকা কার্ড প্রিন্ট করে ১০-১৪ বছরের কিশোরীর নিজের কাছে যত্নসহকারে রাখতে হবে এবং টিকা প্রদানের দিন কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।
৬) একজনের টিকার কার্ড অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারবে না।
আলোকিত চট্টগ্রাম

