চকরিয়ায় লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেছেন চাষিরা।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে চকরিয়ার খুটাখালী এলাকার কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় মহাসড়কে অবস্থান করায় উভয়পাশে শতাধিক দূরপাল্লার গাড়ি আটকা পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী বন্ধ থাকে যানবাহন চলাচল।
এসময় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মু. আবদুর রহমান, অধ্যক্ষ এসএম মনজুর, কক্সবাজার লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি মো. জামিল ইব্রাহিম ও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন মিয়া।
আরও পড়ুন : চকরিয়ায় দুধের শিশুসহ লাশ মা, রক্তাক্ত ১৪
লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের দাবি, বাংলাদেশের একমাত্র দেশীয় লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, ঈদগাঁও, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলায়। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ লবণ উৎপাদন হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। গত মৌসুমে প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় দেশীয় উৎপাদিত লবণ দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। চাহিদা মেটানোর পর কয়েক লাখ টন লবণ এখনও মজুদ আছে।
চাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠ পর্যায়ে লবণের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তবে লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ। মাঠ পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। অথচ এক মণ লবণের উৎপাদন খরচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এরপরও লবণ মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণের নাম দিয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে লবণ আমদানির এলসি অনুমোদন করার পাঁয়তারা করছে। যদি তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয় তবে দেশের একমাত্র স্বনির্ভর লবণশিল্পের ধ্বংস নিশ্চিত।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী আবদুল গফুর, এম জাফর আহমদ, আনিসুর রহমান, ফরিদুল ইসলাম, মনছুর আলম, নাছির উদ্দীন, আবুল হাসেম, নুরুল আজিম সবুজ, আরফাত কামাল জিকু, লবণ চাষি সমিতির সদস্য নুরুল আজম, নজরুল ইসলাম, সিরাজুল মোস্তফা, জাফর আলম, হারুনর রশীদ, মৌলভী সেলিম উদ্দিন, মো. সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ, ফিরোজ বখত তোয়াহা, নাজিম উদ্দিন, শওকত আমিন, মৌলভী আবদুল্লাহ ও হাবিবুল্লাহ মিজবাহ।
এমকেডি/আরবি


