চট্টগ্রামে খুন হয়েছেন মৌসুমী হিজড়া। রাত দুইটার পর নিজের ঘরে ঢুকেন প্রাণোচ্ছ্বল মৌসুমী, আর সকাল হতেই প্রাণহীন দেহ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেললাইন-সংলগ্ন মাসুদ কলোনির বাসা থেকে মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সরেজিমন দেখা গেছে, মৌসুমির গলায় দাগ, বের হয়ে আছে জিহ্বা। একটি চোখ ফোলা ছিল। মুখ দিয়ে বের হয়েছে রক্ত। গুরুমা মৌসুমীর শিষ্যরা বলছেন— এটি পরিকল্পিত খুন।
তারা অভিযোগ করেন, নগরের খুলশী থানার সেগুনবাগান এলাকার আমু উল্লাহ প্রকাশ মোল্লার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পথের কাঁটা হয়েছিলেন মৌসুমী হিজড়া। একাধিক হত্যার হুমকির পরও থানার ধারেকাছে যাননি মৌসুমী। কারণ পুলিশের ওপর মহলে ভালো যোগাযোগ আছে মোল্লার।
মৌসুমী হিজড়ার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মুঙ্গুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার সাবেক মেম্বার শামসুর সন্তান।
স্থানীয় সূত্র বলছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘুমাতে যান মৌসুমী। পরদিন সকালে ডাকাডাকির পরও সাড়াশব্দ নেই। ঘরে ঢুকতেই দেখা যায়— উপুড় হয়ে বিছানায় পড়ে আছে মৌসুমীর নিথর দেহ।
অনুসন্ধান বলছে, রাত দুইটার পর মৌসুমীর বাসায় কেউ একজন ছিল। কারণ দরজার বাইরে এক জোড়া জুতা দেখতে পেয়েছিলে পাশের বাসার একজন। এ সময় মৌসুমীর ঘর থেকে তর্কাতর্কির শব্দও শোনা যায়। ঘটনার পর থেকেই উধাও মৌসুমীর মুঠোফোন।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় খুলশী থানা পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই), গোলাম মো. নাসিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গরু কেনার জন্য মৌসুমীর বাসায় টাকা রাখা ছিল। সেই টাকার জন্য এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কারণ তার বাসায় গিয়ে টাকা ও মুঠোফোন পাওয়া যায়নি।
সূত্র বলছে, আর দশটা হিজড়া থেকে আলাদা ছিলেন মৌসুমী। সবসময় হাসিখুশি ও বিনয়ী এই মানবিক মানুষটি জায়গা করে নিয়েছিলেন অনেকের হৃদয়ে। প্রাণোচ্ছ্বল এক মানুষ হঠাৎ এভাবে প্রাণহীন হয়ে যাবে— এটা মানতে পারছেন না কেউ। তাদের দাবি— মৌসুমীর মৃত্যুর পেছনের সত্যটা জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
আলোকিত চট্টগ্রাম
