কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে সরকারি বরাদ্দে বন্যপ্রাণীর খাদ্য সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী মাংসাশী প্রাণীদের প্রতিদিন গরু জবাই করে তাজা মাংস দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ফ্রিজিং করা বাসি মাংস। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
পার্ক সূত্রে জানা যায়, টেন্ডারের মাধ্যমে পার্কে বাঘ-সিংহের গরুর মাংস সরবরাহ করে মেসার্স সামির ইন্টারন্যাশনাল নামের ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান। ওই ঠিকাদারের হয়ে উপ-ভাড়াটিয়া ঠিকাদার হিসেবে মাংস সরবরাহ করেন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়াউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ উঠেছে, জিয়াউদ্দিন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পার্কে খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। তবে বাসি মাংস প্রতিদিন দেওয়া হলেও পার্কের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালন করছেন নীরব ভূমিকা।
আরও পড়ুন : হিংস্র বাঘ-সিংহের সঙ্গে সংসার পেতেছেন রাজিব
স্থানীয়রা জানায়, জিয়াউদ্দিন গত ৭ বছর ধরে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাতবদল করে খাদ্য সরবরাহে লুটপাটে জড়িত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব ঠিকাদার জিয়াউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জানা যায়, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বেষ্টনীতে বাঘ আছে চারটি এবং সিংহ আছে তিনটি। একটি প্রাণীকে খাবার হিসেবে প্রতিদিন ৬ কেজি করে গরুর মাংস দিতে হয়। সেই হিসাবে ৭টি বাঘ-সিংহকে প্রতিদিন ৪২ কেজি গরুর মাংস সরবরাহ করতে ২০২৪ সালের মে মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এক বছরের জন্য দায়িত্ব পায় মেসার্স সামির ইন্টারন্যাশনাল।
টেন্ডারের কার্যাদেশ অনুযায়ী, বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৫২ দিন সাফারি পার্কের বাঘ-সিংহকে খাবার দেওয়া হয় না। অবশিষ্ট দিন বাঘ-সিংহকে ৪২ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ১৪৬ কেজি গরুর মাংস দিতে হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮৩০ টাকা । সেই হিসাবে ১৩ হাজার ১৪৬ কেজি গরুর মাংসের দাম আসে ১ কোটি ৯ লাখ ১১ হাজার ১৮০ টাকা।
আরও পড়ুন : তীব্র তাপদাহ—পানিতেই স্বস্তি খুঁজছে মাংসাশী প্রাণী
এ বিষয়ে সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, একটি গরু জবাই করলে ৮০ থেকে ৯০ কেজি মাংস হয়। ঠিকাদার একদিনে বাঘ-সিংহের জন্য ৪২ কেজি মাংস সরবরাহ দিতে পারে। হয়ত অবশিষ্ট মাংস ফ্রিজে রেখে পরদিন দিয়েছেন। কেউ কেউ ১৫ দিনের বাসি মাংস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে বলেও বলছে। তবে এই অভিযোগ সঠিক নয়, আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ঠিকাদার বাঘ-সিংহকে বাসি গরুর মাংস দেওয়ার একটি ছবি পেয়েছি। বিষয়টি দেখতে রেঞ্জ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, টেন্ডারের কার্যাদেশে বলা আছে ঠিকাদার প্রতিদিন গরু জবাই করে তাজা মাংস বাঘ-সিংহের খাবার হিসেবে সরবরাহ করবেন। সেখানে ফ্রিজে রাখা বাসি মাংস সরবরাহের কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি ঘটনা সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমকেডি/আরবি


