রাজধানীর ব্যস্ত দিলকুশা। অফিসপাড়ার প্রতিদিনের কোলাহলের মাঝেই রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ভিন্ন এক দৃশ্য। হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখে ক্ষোভ আর কণ্ঠে ন্যায়বিচারের দাবি।
এভাবেই ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়ো হন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সামনে। চাকরিচ্যুত সহস্র ব্যাংকারদের দাবি একটাই— চাকরি ফেরত চাই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার আমলে গণছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এ মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মানববন্ধনের ব্যানারে বড় করে লেখা ‘ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাজারো চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘দফা এক দাবি এক, অবৈধ ম্যানেজমেন্টের পদত্যাগ’, এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, কারও কণ্ঠে ছিল হতাশা আর ক্ষোভের মিশেল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে ছিলাম না, এটাই আজ আমাদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি জামায়াত-শিবির করতাম, তাহলে হয়ত আজ চাকরি হারাতে হতো না।
আরেক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ১০-১৫ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। হঠাৎ একদিন আইডি বন্ধ, তারপর বদলি, শেষে ছাঁটাই। এভাবে একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের সন্তানেরা আজ স্কুলে যেতে পারছে না।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।
তারা বলেন, প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন। হাজারো পরিবার পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এক নারী কর্মকর্তা বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই একই ব্যাংকে চাকরি করতাম। এখন দুজনই বেকার। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না, সন্তানের দুধ কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে চাকরিচ্যুতরা তাদের প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন। দাবির মধ্যে রয়েছে— স্বপদে অবিলম্বে পুনর্বহাল, দলীয় প্রভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি, এডিশনাল এমডি, ডিএমডিসহ ‘জুলুমবাজ’ ম্যানেজমেন্টের পদত্যাগ।
আন্দোলনকারীরা বলেন,, এটি শুধু চাকরি ফিরে পাওয়ার আন্দোলন নয়, এটি হাজারো পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই। আমরা ব্যাংকার, ভিক্ষুক না। সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আমাদের এই দাবি না মানা হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
আলোকিত চট্টগ্রাম

