চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুতে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অটোরিকশার চালক মো. তুষার (২৫) এবং দুবছরের শিশু আয়েশার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিজনের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে পরিচয় মিলেছে আসিফ উদ্দিন বাপ্পী, আসমা আহমেদ ও অঞ্জু আরার। বাকি দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদন
বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট সেতুর উপর কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সাথে বিভিন্ন যানবাহনের সংঘর্ষে তৌহিদুল ইসলাম তুষার (২৯), ১ জন শিশু ও ১ জন অজ্ঞাত নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, পার্কভিউ হাসপাতাল ৬ জন, বোয়ালখালী জেনারেল হাসপাতালে ৪ জন, চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ১ জন চিকিৎসাধীন।
৪ রেলকর্মী বরখাস্ত
এ ঘটনায় লোকোমাস্টারসহ ৪ জন রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— চট্টগ্রাম হেডকোয়ার্টারের ট্রেন গার্ড সোহেল রানা, টি নম্বর–৫৩০–এর লোকোমাস্টার গোলাম রসুল, টি নম্বর–৭২৩–এর সহকারী লোকোমাস্টার আমিন উল্লাহ এবং অস্থায়ী গেটকিপার মাহবুব (টিএলআর)।
৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি
দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন—চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ডিএমই (লোকো), ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার–১ এবং বিভাগীয় চিকিৎসক (পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম)। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে লোকোমাস্টারের অবহেলাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে যুবকের কোমরে পৌনে ২ হাজার ইয়াবা!
শুক্রবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।
যেভাবে দুর্ঘটনা
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালুরঘাট সেতুতে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একাধিক যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। এ সময় অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি দুমড়েমুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সিগনাল না মেনে সেতুতে উঠে গেলে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রেনটি আরও একটি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ ভ্যানকে চাপা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় এসব যানবাহন দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহত পাঁচজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কী বলছে ফায়ার সার্ভিস
কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার আমিনুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এরপর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠাই।
লাল পতাকা দেখেও থামেননি ট্রেনচালক
জানালিহাট স্টেশনের দায়িত্বরত স্টেশন মাস্টার মো. নেজাম উদ্দিন জানান, সেতুর ওপর একটি গাড়ি নষ্ট হওয়ার কারণে সব গাড়ি সেতু থেকে নামতে পারেনি। কিন্তু ট্রেনটি দ্রুতগতিতে সেতুর ওপর উঠে পড়ে। ওই সময় সেতুতে যানজটের কারণে আমরা লাল সিগন্যাল দিই, গার্ডও লাল পতাকা হাতে সংকেত দেন। কিন্তু ট্রেনের চালক মানেননি।
তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো ট্রেনকে কালুরঘাট সেতুর পূর্ব প্রান্তে অন্তত ১০০ গজ দূরে থেমে থাকতে হয় এবং লাইনম্যানের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই সেতু পার হতে হয়। কিন্তু এ দুর্ঘটনায় ট্রেন চালক এই প্রটোকল অমান্য করে সংকেত না নিয়ে সেতুতে প্রবেশ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
থানা পুলিশ বলছে
চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


