বাদুড় থেকে ‘করোনা’—মারাত্মক হতে পারে নতুন ধরন ‘নিওকোভ’

মানবদেহে নতুন যেসব সংক্রমণ দেখা যায় তার বেশিরভাগই আসে প্রাণী থেকে। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে বন্য প্রাণী থেকে। হালে বিশ্বের আতঙ্ক করোনা থেকে শুরু করে অসংখ্য প্রাণঘাতী সংক্রমণের মূল উৎস বন্য প্রাণী।

এদিকে নিওকোভ নামে করোনাভাইরাসের নতুন এক ধরণের কথা জানিয়েছেন চীনের গবেষকরা। তারা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বাদুড়ের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। করোনার এই ধরনটি আরও পরিবর্তিত হয়ে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, করোনার সব ধরনের চেয়ে বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হতে পারে নিওকোভ। এতে আক্রান্ত প্রতি ৩ জনে ১ জনের মৃত্যু হতে পারে! বাজারের কোনো টিকাই এটি প্রতিরোধে সক্ষম হবে না।

আরও পড়ুন : করোনা : চট্টগ্রামে ৪ দিন পর ‘সুখবর’

উহানের বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) এমনটিই জানায় ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম। বায়োআরজিভ ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া গবেষণাপত্রটির এখনো পিয়ার রিভিউ করা হয়নি।

বন্য প্রাণী থেকে মানবদেহে সংক্রমণ

রয়াল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক টিম বেনটন বলেন, গত ৫০ বছরে এমন অনেক ভাইরাস দেখা গেছে যেগুলো প্রাণীর দেহ থেকে সংক্রামক রোগের ভাইরাস মানুষের দেহে ঢুকে পড়েছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, বন্য প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। চীনের উহান শহরের একটি অবৈধ বন্য প্রাণী বিক্রির বাজার থেকেই এটি ছড়ায়।
এর আগে আশির দশকে বানরজাতীয় প্রাণী থেকে এইচআইভি/এইডস ভাইরাসের সূচনা হয়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এভিয়ান ফ্লু ছড়িয়েছিল পাখি থেকে। ২০০৯ সালে শূকরের দেহ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে দেখা দিয়েছিল সোয়াইন ফ্লু।
তারও আগে বাদুড় ও গন্ধগোকুল থেকে ছড়ায় সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সার্স। আফ্রিকায় আতঙ্ক ছড়ানো ইবোলা ভাইরাসেরও সূচনা হয়েছিল বাদুড় থেকে।

যেভাবে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে

বেশিরভাগ প্রাণীর দেহেই রয়েছে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস। এগুলো রোগ সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে। এদের বলা হয় প্যাথোজেন। এই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া এক রকম অণুজীব। যাদের বাস অন্য প্রাণীর দেহে। এরা ক্রমাগত বংশ বৃদ্ধি করে টিকে থাকা।
প্রাণীর দেহে যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ‘ইমিউন সিস্টেম’ থাকে এর কাজ হলো— এসব ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে মেরে ফেলা। তাই এসব অণুজীব টিকে থাকার একটি উপায় হলো— নতুন নতুন হোস্ট বা নতুন নতুন প্রাণীর দেহে ছড়িয়ে পড়া।

আরও পড়ুন : ‘সুখবর’—ব্রিটেনে উঠে যাচ্ছে মাস্কের বিধিনিষেধ, ১১ মার্চ থেকে করোনামুক্ত হবে ভারত!

আবার সেই নতুন হোস্টদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও কাজ হচ্ছে— নতুন অনুপ্রবেশকারীর মোকাবেলা করতে থাকা।

এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে ভাইরাসগুলো ক্রমাগত নিজেদের মধ্যে মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে থাকে। নতুন হোস্ট প্রাণীর ইমিউন সিস্টেম যাতে ঘায়েল করতে না পারে সেজন্যই এই মিউটেশন। প্রতিটি প্রাণীর দেহেই প্যাথোজেন বনাম ইমিউন সিস্টেমের মধ্যে পরস্পরকে ধ্বংস করার নিরন্তর লড়াই চলতে থাকে।

যা করতে হবে

প্রাণী থেকে সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে— পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য পরিবেশগত পরিবর্তনও ঠেকাতে হবে। সবচেয়ে জরুরি, নতুন প্যাথোজেন চিহ্নিত করা। জানতে হবে কোন কোন প্রাণী তা বহন করছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm