রক্তাক্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, বাড়ছে লাশ

ঈদের রাতে পটিয়ার ভেল্লাপাড়া ব্রিজের পশ্চিম অংশের ক্রসিং এলাকায় বেপরোয়া গতির ঈগল পরিবহনের বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাড়ছে লাশ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত ৯টার দিকে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুতগতিতে ছুটে আসা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় মহাসড়কে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। আহতদের কান্না, স্বজনদের আহাজারি আর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় সড়কের ওপর।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের দুলা মিয়ার বাড়ির মো. ইউসুফ (৫৩), আশিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির মৃত আবদুল মোমিনের ছেলে এমদাদুল ইসলাম রুবেল (২৭), পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দারখিল এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে হারুনর রশিদ (৫১) এবং কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের সজিব হোসেন (২৬)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহতদের দ্রুত চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আহত কয়েকজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শহিদুল ইসলাম বলেন, বাসটি খুব দ্রুতগতিতে ছিল। সংঘর্ষের পর লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। যাত্রীদের অনেকেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এমন দৃশ্য জীবনে খুব কম দেখেছি।

নিহত রুবেলের এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঈদের রাতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু এখন আমরা লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছি। এই শোক কীভাবে সইবো।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিং ও দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত যানবাহন ও চালকদের প্রতিযোগিতামূলক গতিই প্রাণহানির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে নিহত চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm