সীতাকুণ্ডে ইউরো গ্যাস কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে চলছে লুকোচুরি। কারখানায় টাংকি তৈরি করতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের কারণেই এ মৃত্যু। কিন্তু এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, গত ১০ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে ইউরো গ্যাস কারখানায় চলছিল টাংকি তৈরির কাজ। এ সময় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন কারখানার ২২ বছরের শ্রমিক ওবায়দুর রহমান। গত ১৭ ডিসেম্বর রাত ১টায় বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওবায়দুর।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউরো গ্যাস কারখানায় ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে টাংকি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ আগুনের ফুলকিতে গুরুতর আহত হন শ্রমিক ওবায়দুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ ডিসেম্বর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওবায়দুর।
এদিকে এ ঘটনা নিয়ে লুকোচুরি শুরু করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনা ও শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি তারা অস্বীকার করে। এ বিষয়ে জানতে ইউরো গ্যাস কারখানার জিএমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে শেষে কারখানায় যান প্রতিবেদক। প্রতিবেদককে জানানো হয় জিএম কারখানার ভেতরে আছেন। কিন্তু প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষার পরও দেখা নেই জিএমের।
মূলত সাংবাদিক পরিচয় জানার পরই এড়িয়ে যেতে চান জিএম। একপর্যায়ে প্রতিবেদককে জানানো হয়, জিএম সাহেব অসুস্থ, তিনি চলে গেছেন।
এদিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, আহত শ্রমিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার সুবিল ইউনিয়নের জয়নাল আবেদীনের একমাত্র সন্তান ওবায়দুর রহমান। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন চারিদিকে অন্ধকার দেখছেন অভাগা বাবা জয়নাল আবেদীন।
ছেলের কথা তুলতেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন জয়নাল। বলেন, আমার সব শেষ। একমাত্র ছেলে জীবিকার আশায় চাকরি করতে গিয়েছিল। কিন্তু ঘরে ফিরল লাশ হয়ে।
বছরখানেক আগে ওবায়দুর বিয়ে করেছিল জানিয়ে জয়নাল বলেন,
অনেক অনুরোধ করলাম আমার বাপজানের ময়নাতদন্ত না করতে। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনল না।
এসএমআই/আলোকিত চট্টগ্রাম
