৮ মাসে আত্মহননের পথে গেল ৩৬৪ শিক্ষার্থী—বেশিরভাগই স্কুলপড়ুয়া

চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে দেশের ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি স্কুলপড়ুয়া।

শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়৷

তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে ৩৬৪ জন আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯৪ জনই ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে কলেজ শিক্ষার্থীরা, যার সংখ্যা ৭৬ জন। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহননকারীর সংখ্যা ৫০।

তবে মোট আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ছিল ৪৪ জন। পত্রিকা থেকে সংগৃহীত আত্মহত্যার ঘটনা অনুযায়ী পরিসংখ্যানটি তৈরি করা হয়।

তথ্যানুসারে দেখা যায়, আত্মহত্যায় এবারেও এগিয়ে আছে নারী শিক্ষার্থী। যা মোট আত্মহননকারীদের ৬০.৭১ শতাংশ বা ২২১ জন। অন্যদিকে পুরুষ শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৯.২৯ শতাংশ বা ১৪৩ জন। বেশিরভাগ আত্নহত্যার নেপথ্যে ‘প্রেম’।

আরও পড়ুন: রাতে ফেসবুকে দুটি পোস্ট—এরপর দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর আত্মহনন

ঘটনা অনুসন্ধানে আঁচল ফাউন্ডেশনের তরুণ গবেষকরা অভিমান, প্রেমঘটিত কারণ, সেশনজট, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, পড়াশোনার চাপ, পরিবার থেকে কিছু চেয়ে না পাওয়া, পারিবারিক কলহ, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি, চুরি বা মিথ্যা অপবাদ, মানসিক সমস্যা, বিয়েতে প্রত্যাখ্যাত, স্বামী পছন্দ না হওয়া, বাসা থেকে মোটরবাইক কিনে না দেওয়া ইত্যাদিকে চিহ্নত করেন। আরও রয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বিষণ্নতা, বন্ধুর মৃত্যু ও আর্থিক সমস্যা।

তথ্যানুসারে, সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৫.২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রেমঘটিত কারণে নিজের জীবন বিকিয়ে দেন। অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ২৪.৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭.৪২ শতাংশ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬.৫৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছে।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে কোনো কিছু না পেয়ে অভিমান করেও আত্মহত্যা করেছে। আমাদের অনেক বড় ধরণের প্রকল্প হাতে নিতে হবে। সাত বছরের একজন, যার আত্মহত্যা বোঝার মতো বয়সও হয়নি তার আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলোও বিশ্লেষণ করে শিশু অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মনোবল শক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সম্মেলনে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেখা যাচ্ছে আত্মহত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে কম বয়সী স্কুলগামী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মদের মাঝে এই প্রবণতা বেশি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্কুলগামী আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ৬০ শতাংশেরও বেশি। এই হার এত উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কোন কারণগুলো আছে তা খুঁজে বের করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার এডিসি ( শিক্ষা ও আইসিটি ডিভিশন) আজিজুল হক মামুন বলেন, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে। এক্ষেত্রে মাধ্যমিক বা কলেজ পর্যায়ের স্কুলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের কো-কারিকুলার কার্যক্রমে বেশি করে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাছাড়া কলেজ বা মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলে কালচারাল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

ফাউন্ডেশনের জেনারেল সেক্রেটারি সামিরা আক্তার সিয়াম বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় জন্মের পর থেকে জীবনধারনের দক্ষতাগুলো চর্চা পাঠক্রমে যুক্ত করা উচিত। যেমন- যোগব্যায়াম, মননশীলতার অনুশীলন, চাপ ও রাগ ব্যবস্থাপনা, সহানুভূতি, নিজের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে যোগ করতে হবে।

এআইটি/এসআর

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm