কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে সরকারি অর্থের বাইরে টাকা আদায়, দালালের মাধ্যমে গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়াসহ রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এখানে ২ হাজার ৭শ টাকার লাইসেন্সের জন্য দিতে হয় ১৬ হাজার টাকা! আবার টাকার জোরে পঞ্চম শ্রেণি পাস ব্যক্তি সার্টিফিকেটে বনে যান অষ্টম শ্রেণি পাস।
কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে ধরা পড়ে এসব অনিয়ম। বুধবার (৭ মে) সকাল ১১টায় কোর্ট বিল্ডিংয়ের কক্সবাজার বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালায় দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল। এতে নেতৃত্ব দেন দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা বিআরটিএ অফিসে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের লারপাড়া এলাকার আনিসুর রহমান দুদক দলকে বলেন, আমি লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে দিয়েছি। আমি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। তবে আমার ফাইলে দেখছি অষ্টম শ্রেণি পাস সার্টিফিকেট আছে। সেই সার্টিফিকেট আমি দিইনি। কীভাবে এলো সেটাও জানি না।
ঈদগাঁও এলাকার শহিদ বলেন, আমি ঈদগাঁও এলাকার লুতু নামের একজনকে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স করতে দিয়েছি। এখনো পাইনি। তবে সেই লাইসেন্সের সরকারি ফি ২ হাজার ৭শ টাকা।
এ সময় কক্সবাজার বিআরটিএ কর্মকর্তারা প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান দুদক কর্মকর্তাদের। অনেক নথিপত্র জব্দ করেন দুদক কর্মকর্তারা।
দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিআরটিএ সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে সেবার বিপরীতে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য আমাদের কাছে আসছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা আজকে অভিযান চালিয়েছি।
তিনি বলেন, অনেক অনিয়মের তথ্য প্রাথমিকভাবে পেয়েছি। কিছু নথিপত্র জব্দ করেছি। আরো কিছু সরবরাহ করতে বলেছি। এর পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক উথোয়াইনো চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, দুদক আমাদের কার্যালয়ে এসেছে এতে আমি খুশি। কারণ অনেক সময় আমার অগোচরে অনেক অনিয়ম হয়ে যায়। অফিসের বাইরে অনেকে অনেক ধরনের অন্যায় করে ফেলে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীরা শাস্তি পাক। আমি সরকারের কর্মচারী, মানুষকে সেবা দিতে এসেছি, সেটাই আমার কাজ।
আলোকিত চট্টগ্রাম


