চট্টগ্রাম জেলায় আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। এবার ৮ লাখ ২৫ হাজার ৭১৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা পর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
সিভিল সার্জন বলেন, চলতি বছর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ২০০ ইউনিয়নের ৬০০ ওয়ার্ডে ৮ লাখ ২৫ হাজার, ৭১৬ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬- থেকে ১১ মাস বসয়ী শিশু ৯২ হাজার ৭২৭ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু ৭ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৯ জন। গত বছর ৯৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অজির্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি, ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। এদিন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে। এছাড়া ভ্রমণে থাকাকালীন সময়ে রেলস্টেশন, টার্মিনাল, ফেরি ঘাট ও লঞ্চ ঘাটের টিকা কেন্দ্র থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। তবে খালি পেটে ও অসুস্থ কোনো শিশুকে এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। অবশ্যই ভরা পেটে খাওয়াতে হবে। বাদ পড়া শিশুদেরও পরবর্তীতে খাওয়ানো হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ উপজেলাগুলোতে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৫২ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৫৮ জন, স্বাস্থ্য সহকারী ৪৮০ জন, পরিবার কল্যাণ সহকারী ৭২০ জন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ১৯৬ জন, স্বেচ্ছাসেবক ৯ হাজার ৬৬০ জন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ১৪ জন, সিএইচসিপি ৫২৯ জন ও ৮৩ জন স্যাকমো নিয়োজিত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হয়ে গেলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। পরিবারের রান্নায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেলের ব্যবহার শিশুদের জন্য খুবই উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ খাবার খাওয়াতে হবে। জাতীয় এই কর্মসূচিকে সফল করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন তৌহিদুল ইসলাম, এমওডিসি ডা. নুরুল হায়দার, ডাব্লিউএইচও মেডিকেল অফিসার ডা. এফএম জাহিদুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া।
এদিকে একইদিন ৫ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাসের ৯০ হাজার শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাসের ৪ লাখ ৭০ হাজার শিশু।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম
