চট্টগ্রামে খুনের পরিকল্পনায় শ্রমিক দলের নেতা, মামলা তুলে নিতে হুমকি

চট্টগ্রামে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমিটির বন্দর শাখার আহ্বায়ক মো. জসীম (২৬) খুনের আসামি ঘুরছে বুক ফুলিয়ে। খুনের মূল পরিকল্পনাকারীসহ বেশিরভাগ আসামিই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। নিহত জসীমের ভাইয়ের অভিযোগ, মামলা তুলে নিতে পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত দেওয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটে ঘটে সেই খুনের ঘটনা। নগরের বন্দর থানা এলাকার চান্দারপাড়া টিজি কলোনির মুখে ওঁৎ পেতে ছিল ২৩ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। জসিমকে দেখতেই তারা শুরু করে মারধর। মারধরের একপর্যায়ে তাঁর গলায় ছুরি চালিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় মারা যান জসীম।

এদিকে পরিবারের অভিযোগ, হামলার পরিকল্পনাকারী নগর শ্রমিক দলের সহসাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজি। তাঁর নেতৃত্বেই হয়েছে এ হত্যাকাণ্ড।

তারা আরও অভিযোগ করেন, জসীম খুনের আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নিতে পরিবারের সদস্যদের দিচ্ছে হুমকি-ধমকি।

এদিকে পুলিশ বলছে, মামলা তদন্তাধীন। তদন্তে যার নাম আসবে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নগরের আনন্দবাজারের ময়লার ডিপোতে পথশিশুদের মাধ্যমে পচা ভাত ও ফলমূল কিনে মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন কারখানায় বিক্রি করতেন জসিম। এ ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এ ব্যবসায় চোখ পড়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম মহানগরের সহসাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজির। ওই ব্যবসা বাগিয়ে নিতে জসীমকে দিনের পর দিন দেওয়া হয় হুমকি-ধামকি। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় তাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হয়। অবশেষে ফিল্মি কায়দায় খুন করা হয় জসীমকে।

এ ঘটনার একদিন পর নিহত জসীমের ভাই বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বন্দর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুই নম্বর আসামি ইব্রাহিম ফরাজির ইন্ধনে বাকি আসামিরা জসিমকে কিল-ঘুষি ও গলার নিচে ছুরি মেরে রক্তাক্ত করে। পরে স্থানীয়রা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে টানা ১০ ঘন্টা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যান জসীম।

এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী আব্দুর রহিম সুমন বলেন, আমার ছোট ভাই জসীমের ব্যবসায় চোখ পড়েছিল শ্রমিক দলের নেতা ইব্রাহিম ফরাজির। ব্যবসা ছেড়ে দিতে তিনি ভাইকে চাপ দিতে থাকেন।

তিনি বলেন, ১৩ জন আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র তিনজন। মূলহোতা ইব্রাহিম ফরাজি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত আমোদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এমএ নাজিম উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ মামলায় দলীয় কোনো প্রভাব নেই। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।

যোগাযোগ করা হলে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মু. সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে যিনি দোষী হবেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm