শুরুর পর বন্ধ সংস্কারকাজ, বিপিন বিহারী নন্দী সড়ক বেহাল

সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে, কোথাও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে তৈরি হয় মরণফাঁদ। আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় একাকার পুরো সড়ক। সড়কটিতে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে, আর পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় পটিয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ বিপিন বিহারী নন্দী সড়কটির অবস্থা এখন এমনই।

পটিয়া-আনোয়ারা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণ পটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে আমজুর হাট থেকে শুরু হয়ে জঙ্গলখাইন, বড়লিয়া, আশিয়া হয়ে আনোয়ারা উপজেলার সীমান্তবর্তী টাঙ্গারপুল পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে পটিয়া, আনোয়ারাসহ আশপাশের এলাকার লাখো মানুষ যাতায়াত করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সড়কের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে অটোরিকশা, টেম্পো, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পটিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ ফুট প্রশস্ত ও সাড়ে আট কিলোমিটার দীর্ঘ বিপিন বিহারী নন্দী সড়কের অতি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য গত বছর প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিএম কনস্ট্রাকশন কাজও শুরু করে। তবে সড়কের নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই চলে যায়। ফলে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে সড়কটির সংস্কার। বর্তমানে সড়কটি শুধু সংস্কার নয়, এর প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছে এলজিইডি।

স্থানীয় বড়লিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আহমদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের যে অবস্থা, তাতে মনে হয় এখানে মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে বোঝার উপায় থাকে না কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অটোরিকশাচালক খোরশেদ আলম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো এখন খুবই কষ্টকর। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীদেরও ঝাঁকুনি সহ্য করতে হচ্ছে। অনেক সময় গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত দিকের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।

রিকশাচালক জালাল উদ্দীন বলেন, সড়কের অবস্থা এত খারাপ যে রিকশা চালিয়ে ঠিকমতো চলা যায় না। গর্তে চাকা আটকে যায়, কখনো রিকশা উল্টে যাওয়ারও উপক্রম হয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের।

জানতে চাইলে আশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ বলেন, বিপিন বিহারী নন্দী সড়কটি শুধু আশিয়া নয়, জঙ্গলখাইন, বড়লিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করে টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা করা জরুরি।

যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিপিন বিহারী নন্দী সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশের সংস্কারকাজের জন্য গত বছর তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। টেন্ডার শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ বলেন, ১২ ফিট প্রশস্তের সাড়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিপিন বিহারী নন্দী সড়কের অতি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ কিলোমিটার অংশের জন্য গেল বছর তিন কোটি টাকা বরাদ্দের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজও শুরু করেছিলেন ঠিকাদার। কিন্তু মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে কাজটি অসম্পূর্ণ রেখে যান। বর্তমানে সড়কটিকে ১৮ ফিট প্রশস্তকরণের প্রস্তাব এলজিইডি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সড়কটির বেশ কিছু অংশ অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সড়কটি প্রশস্তকরণসহ সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm