রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় উত্তাল চট্টগ্রাম—আসছে কঠোর কর্মসূচি
সমাবেশস্থলে আসতে পথে পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা
চট্টগ্রামে সনাতন জাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ সমাবেশ রূপ নিলো জনসমুদ্রে। কানায় কানায় পূর্ণ চেরাগী চত্বরের আশপাশ। স্লোগানে স্লোগানে মুখর সমাবেশস্থল। অবিলম্বে মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা প্রত্যাহার না হলে আগামী রোববার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বারাবর স্মারকলিপি প্রদান ও সোমবার মিডিয়ার মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় নগরের চেরাগী পাহাড় চত্বর এলাকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহে করা মামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় একই এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সনাতনীরা।
আরও পড়ুন : ৮ দাবিতে অনড় হিন্দুরা, চট্টগ্রামের জনস্রোত থেকেই ঢাকায় লং মার্চের ঘোষণা
এদিকে আজকের সমাবেশের আসার পথে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয় আয়োজকদের। পরে বাধা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকে সনাতনীরা। সমাবেশস্থল চেরাগী পাহাড় মোড়ও সমবেত নারী-পুরুষদের রাস্তার এক পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটকে রাখেন। একপর্যায়ে সেই বাধা ঠেলে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন তারা। এরপর দলে দলে সনাতনীরা জড়ো হতে থাকেন চেরাগী মোড়ে। একপর্যায়ে সমাবেশস্থল রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা রাষ্ট্রদোহ মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। মামলা নিয়ে নতুন নাটক করা হচ্ছে। মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না। হিন্দুরা জেগে উঠেছে। তাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। এছাড়া আমাদের ৮ দফা দাবি যতক্ষণ পূরণ হবে না আমরা ঘরে ফিরে যাব না। দাবিগুলো পূরণ করে ছাড়ব। যেদিন আমাদের সব দাবি পূরণ হবে কথা দিচ্ছি আমরা আর রাজপথে নামব না।
সংগঠনের সমন্বয়ক স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাশ ব্রহ্মচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা সনাতনী জাতিগোষ্ঠীর ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকার এবং এদেশে আমাদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে কমৃসূচি পালন করে আসছি। অনেকে বলেন, বিগত ১৬ বছর আপনারা কোথায় ছিলেন? আপনারা আওয়ামী লীগের দালাল। আওয়ামী লীগ হিন্দু লীগ হয়ে ফিরে এসেছে। আমরা বলতে চাই, বিগত ১৬ বছর আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম না, আপনারা ঘুমিয়ে ছিলেন। কারণ পরিচয় গোপন করে আপনারা সুবিধা ভোগ করেছেন। যখনই আমাদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছে তখনই আমরা রাজপথে ছিলাম। সর্বশেষ ২০২১ সালে রক্তাক্ত শারদ হয়েছিল। সেসময়ও সারা দেশজুড়ে পৃথিবীর ১৫৪টি দেশে আন্দোলন হয়েছিল। জাতিসংঘের সামনে থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মহাদেশে। কতবড় একটি জ্বলন্ত সত্যকে অস্বীকার করে আপনারা মিথ্যাচার করছেন যে, বিগত ১৬ বছর কোনো প্রতিবাদ করেনি, আন্দোলন করেনি। আমরা ধিক্কার জানাই আপনাদের।
ব্যক্তি মাহমুদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা তো এখনও দেশে আছি, আমরা দেশ ছেড়ে যায়নি। আপনি তো দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন। ধরে নিয়ে এসেছে। আপনি এখন মিডিয়ায় বলছেন, এটি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, অন্য দেশের মদদপুষ্ট আন্দোলন । আপনি কত বড় দেশপ্রেমিক বাংলার মানুষ এখনও সেটি ভুলেনি। আরো কিছু মিডিয়া রয়েছে, আমরা বিগত সময়ও দেখেছি। যারা সত্যকে অস্বীকার করে শাসকগোষ্ঠীর তাবেদারি করেছে। আজ তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। আজকে যারা সরকারের প্রশাসনের অন্যায়কে সহ্য করে তাদের তাবেদারি করছেন ইতিহাস চিরদিন সবার সমান যায় না। সামনের ভবিষ্যত আপনারা অপেক্ষা করুন। যেদিন প্রকৃত সত্যের আপনারা মুখোমুখি হবে।
আরও পড়ুন : দেশজুড়ে হামলা-নির্যাতন, প্রতিবাদে চেরাগী চত্বরে লাখো হিন্দুর ঢল
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে মামলার বাদীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন নতুন নাটকের অবতারনা হচ্ছে। তারা বলছে, আমরা দুজন সাধুকে মামলা থেকে বাদ দেব। বাকিদের নামে মামলা থাকবে। আমরা সেটা কখনও মানতে পারি না। কারণ সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য যারা তারা নিঃস্বার্থভাবে জাতির জন্য এগিয়ে এসেছে। সুতরাং দুজন সাধুকে বাদ দিয়ে আমরা এ মামরা প্রত্যাহার চাই না। আর নাটকের দরকার নেই, আজকেই এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। তাহলে এই আন্দোলনের দরকার নেই। সকলে শান্তিতে থাকবেন। আজকের সারা পৃথিবীতে আন্দোলন হচ্ছে, দেশের সবকটি জেলায় আন্দোলন হচ্ছে। আগামীকাল (শনিবার) নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ার ও জাতিসংঘের সামনে কর্মসূচি আছে। আমরা চাই না দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না হলে আগামী রোববার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে স্মারকলিপি পেশ এবং সোমবার মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী সমন্বয়ক জুয়েল আইচ, মোহন্ত সচিদানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীমৎ মুরারী দাস বাবাজী ও তপোবন আশ্রমনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রাঞ্জলানন্দ পুরী মহারাজ, বিপ্লব চৈতন্য দাশ ও অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


