শাহ আমানত তৃতীয় সেতুর টোল প্লাজা এখন দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজটের কারণেই এখন পর্যটন নগর কক্সবাজারসহ দক্ষিণের যাত্রীদের যন্ত্রণার নাম টোল প্লাজা।
ব্যাটারি রিকশা বেড়ে যাওয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চাপ, টোল আদায়ের ধীরগতি, অব্যবস্থাপনাসহ আর কয়েকটি কারণে প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে শাহ আমানত সেতুতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনই শাহ আমানত সেতুতে যানজট থাকে। তবে ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার। এ সময় দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ির পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সকেও।
চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটের মিনিবাস চালকের সহকারী আলম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সকাল-বিকাল টোল প্লাজার সামনে তীব্র জট তৈরি হয়। টোল আদায়কারী আটটি লেন চালু থাকলেও, ধীরগতির কারণে গতি কমে যায়। সেতুর দুপ্রান্তে এমনিতেই যানজট লেগে থাকে, তার ওপর টোল আদায়ের সময়ও বাড়তি বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের এস আলম বাস সার্ভিসের চালক সিরাজ মিয়া বলেন, টোল আদায় দ্রুত করা গেলে এই জট অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের টোল আদায়ের অব্যবস্থাপনা আর ধীরগতি আমাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে চলাচলকারী ব্যবসায়ী সোহেল মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, কর্ণফুলী সেতুর চেয়ে মেঘনা-গোমতী বা যমুনা সেতু দিয়ে অনেক বেশি গাড়ি চলে। কিন্তু ওখানে টোল আদায় অনেক দ্রুত হয়। শাহ আমানত সেতুতে টোল আদায় ধীরগতির পাশাপাশি নতুন স্টাফ দিয়ে কাজ করানো হয়। সেই সঙ্গে যত্রতত্র পার্কিং আর ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে যানজট বাড়ছে।
এদিকে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন বাড়ায় বেড়ে গেছে যানজট।
কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা এলাকার জনপ্রতিনিধি আবদুন নুর বলেন, টোল প্লাজায় যানজট কমাতে অন্তত আরও চারটি লেন বাড়ানো দরকার। সেই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শৈথিল্যের কারণেই অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যানজটমুক্ত নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজা ইতোমধ্যে ৬ থেকে ৮ লেনে উন্নীত করা হলেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মইজ্জ্যারটেক টোল প্লাজার দুই পাশে ১২ ফুট রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত ভোগান্তি দূর হচ্ছে না বলে নিশ্চিত শাহ আমানত সেতু দিয়ে চলাচলকারীরা।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মহি উদ্দিন বলেন, শাহ আমানত সেতুর যানজটের প্রধান কারণ অটোরিকশার আধিক্য, চালকদের শৃঙ্খলা না মানা এবং অতিরিক্ত গাড়ির চাপ। অনেক গাড়ির নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা হয়। প্রভাবশালীরা টোল দিতে চান না, আর চালকদের বড় টাকার নোট দেওয়ায় ভাংতি দিতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া সন্ধ্যায় কারখানার ছুটির সময় এবং ছুটির দিনে বিনোদনপ্রেমীদের কারণে চাপ আরও বেড়ে যায়। ছোট গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় টোলপ্লাজার লেনগুলোতে বাড়তি ভিড় হয়। যদিও টোল আদায়কারীরা সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তবুও ধীরগতির কারণে যানজট কমছে না।
যানজটের বিষয়ে মইজ্জ্যারটেক এলাকার ট্রাফিক ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সম্প্রতি এই রুটে যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। নতুন করে ট্রাফিক পুলিশ বক্স নির্মাণের কাজ চলছে। তবুও গাড়ির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে টোল প্লাজার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানি সেল-ভ্যান জেভি’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক সুমন ঘোষ বলেন, বর্তমানে শাহ আমানত সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৭ হাজারেরও বেশি গাড়ি চলাচল করছে। যদিও ৮টি লেন দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু ছুটির দিনে চাপ বেড়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইতোমধ্যে দুপাশে রাস্তা বর্ধিতকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, শিগগির শুরু হবে কাজ।
আলোকিত চট্টগ্রাম

