চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেক এলাকার হোটেলে দেহ ব্যবসা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। রমরমা এ দেহ বাণিজ্যের নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে আফতাব হোসেন যোগ দেওয়ার পর ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেহ বাণিজ্যের সেই সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার। এর পর গত দুমাসে চলেছে অর্ধডজন অভিযান। যেসব অভিযানে রূপজীবী-দালালদের সঙ্গে আটক হয় খদ্দেরও। কিন্তু এতকিছুর পরও হার মানতে নারাজ আড়ালে থেকে দেহ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া সিন্ডিকেটের সেই প্রভাবশালীরা।
সর্বশেষ সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় ফয়’স লেক এলাকার রুপসী বাংলা গেস্ট হাউজ ও হোটেল প্রিন্সে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় ৩ দালালসহ ৬ নারীকে আটক করা হয়।
থানা পুলিশের তথ্য বলছে, গত দুমাসে খুলশী এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অর্ধডজন অভিযান চালিয়েছে খুলশী থানা পুলিশ। এসব অভিযানে ৪৫ জন যৌনকর্মীর সঙ্গে আটক করা হয় ১০ খদ্দেরকেও।

স্থানীয়রা বলছেন, খুলশী থানায় নতুন ওসি আসার পর একের পর এক অভিযান চলছে। টানা অভিযানের অবৈধ এ ব্যবসা পরিচালনা করা হোটেল মালিকরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কিন্তু এরপরও এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পুলিশের অভিযানের পরও তারা তৎপর দেহ বাণিজ্য চালু রাখাতে। এটি পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন : ফয়’স লেকের সেই হোটেলগুলোর জমজমাট বাণিজ্যে বাধা ‘নতুন ওসি’
এদিকে থানা পুলিশ বলছে, দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান থামবে না। একইসঙ্গে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধেও তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র বলছে, অবৈধ এ দেহ বাণিজ্যের আড়ালে রয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও এক পুলিশ। তাদের কারণেই অভিযানের পরও পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না দেহ বাণিজ্য।
স্থানীয় সূত্র বলছে, রুপসী বাংলা গেস্ট হাউজ পরিচালনা করছেন আল আমিন, সুমন ও ডিবি ফরিদ। ডিবি ফরিদ বর্তমানে কর্ণফুলী জোনের সিটিএসবিতে কর্মরত। এছাড়া হোটেল প্রিন্স নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও রাজু নামের এক যুবক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুপসী বাংলা গেস্ট হাউজ পরিচালনাকারী আল আমিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমরা এখন হোটেল অন্য আরেকজনকে ভাড়া দিয়ে দিয়েছি।
যোগাযোগ করা হলে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমার থানা এলাকায় মাদক, জুয়া ও দেহ ব্যবসা চলবে না। এসব চক্র যতই শক্তিশালী হোক, তাদের থেকে আইন আরও বেশি শক্তিশালী। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


