চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এখন মৃত্যুফাঁদ। মহাসড়কটিতে ঝরছে একের পর এক প্রাণ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্যরাত ও শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে সংঘটিত দুই দুর্ঘটনায় ঝরেছে দুই প্রাণ। এর মধ্যে একজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, অপরজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নৌবাহিনীর আরেক সদস্য।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় মো. আলী (৩৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৈয়গ্রাম এলাকার মো. হাশেমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের হাজারী গলির একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. আলী একটি প্রতিবেশীর মেহেদী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মোটরসাইকেলে করে শান্তিরহাট যান। সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেছন দিক থেকে আসা একটি বাস চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
অপরদিকে শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কের সেয়ানপাড়া এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় দ্রুতগতির একটি হানিফ পরিবহনের বাস মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দিলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এম নাজমুস সাকিব (৩৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সাহারপাড়া এলাকার ইসমাঈল মোল্লার ছেলে।
এ ঘটনায় নৌবাহিনীর নাবিক মো. ইকরাম হোসেন (২৯) গুরুতর আহত হন। তিনি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার মৃত আবু হানিফের ছেলে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাজমুস সাকিব ও আহত ইকরাম হোসেন উভয়ই চট্টগ্রামের পতেঙ্গা নৌঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তারা ছুটির দিনে মোটরসাইকেলে পতেঙ্গা থেকে কক্সবাজার ভ্রমণে যাচ্ছিলেন।
যোগাযোগ করা হলে পটিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসটি পালিয়ে গেছে। আমরা বাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। নিহতের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শান্তিরহাট এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত দুর্ঘটনার বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস অংশে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণেই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
আলোকিত চট্টগ্রাম

