চট্টগ্রামে সাংবাদিককে যুবদল নেতা বাদশার হুমকি

যুবদল নেতা বাদশা। শুধু নামে নন, কথাবার্তায়ও তিনি বাদশা। সবাইকে যেন তিনি মনে করেন নিজের প্রজা। কথায় কথায় দেন হুমকি। বাদশার হুমকি থেকে এবার বাদ গেল না সাংবাদিকও।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ১১ মিনিট। দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের রিপোর্টার জুলহাজ নীলের মুঠোফোনে বেজে উঠল রিংটোন। রিসিভ করতেই জানা গেল এ ফোন বাদশার, যুবদল নেতা বাদশার।

ফোনে প্রতিবেদককে ধমকের সুরে কথা বলেন যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা। একপর্যায়ে বলেন, আপনি আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছেন, এই নিউজ করার জন্য। আমি আপনার বিরুদ্ধে এখনই মামলা করবো।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশার বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়। এই যুবদল নেতার চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ অনেকেই। বাদশার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।

বাদশার এসব অপকর্মের অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন একাধিক ভুক্তভোগী। সেই বাদশার রোষাণল থেকে এবার রেহাই পেল না সাংবাদিকও। ফোনে দিলেন মামলার হুমকি।

আরও পড়ুন : হুমকি—হামলার প্রবণতা থেকে বের হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান নোবেলজয়ী ইউনূসের

এর আগে সোমবার দুপুরে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের ডিজিটাল ভার্সনে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার হয়। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয় নগর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রত্যাশী ও সম্ভাব্য নেতৃত্বের চিত্র। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশী এমদাদুল হক বাদশার বিষয়টিও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। এছাড়া প্রতিবেদনে বাদশার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের কয়েক মিনিটের মাথায় প্রতিবেদক জুলহাজ নীলের মুঠোফোনে কল করেন বাদশা। উত্তেজিত কণ্ঠে দিতে থাকেন হুমকি-ধমকি। বাদশা বলেন, আমি যে চাঁদাবাজি করেছি এরকম কোনো অভিযোগ কি আপনার কাছে আছে? তখন প্রতিবেদক বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রকাশও হয়েছে। এ কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বাদশা। বলেন, আপনি কি আদালত? নাকি থানা? আমি মামলা করবো, এখনই যাচ্ছি।

উত্তেজিত বাদশা একপর্যায়ে বলেন, আপনার কাছে কেন অভিযোগ যাবে? বাংলাদেশের কোন সাংবিধানিক অধিকার আপনাকে দিয়েছে? একজন সাধারণ মানুষ থানাতে অভিযোগ না করে, কোর্টে অভিযোগ না করে, আপনাকে কেন অভিযোগ দিবে?

তখন প্রতিবেদক বিভিন্ন অভিযোগে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলনের কথা জানালে আরও ক্ষেপে যান বাদশা। বাদশা বলেন, চাঁদাবাজি করেন, টাকা-পয়সা খেয়ে মানুষের মানসম্মান নষ্ট করেন। আপনি আমার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা চাইছেন। আমার সামনে লোক আছে, এরা সবাই বলছে। আপনি আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চাইছেন, এই নিউজ করার জন্য। আমি আপনার বিরুদ্ধে এখনই মামলা করবো।

উত্তেজিত বাদশা বলেন, কোন সরকার আপনাকে দায়িত্ব দিছে? আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনার, আমার অনিয়ম ধরার আপনি কে? আপনি আমার থেকে চাঁদা চাইছেন, এটাই কথা। আমি আপনার বিরুদ্ধে এখনই মামলা করতে যাব। আপনি আওয়ামী লীগের দালাল। হাছান মাহমুদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এগুলো করেন, নওফেলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এগুলো করেন। আমি মামলার জন্য যাচ্ছি, আপনি আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চাইছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিবেদককে ফোন করে মামলার হুমকি দেওয়া গণমাধ্যমকে বাধাগ্রস্ত করার সামিল কিনা জানতে চট্টগ্রাম প্রতিদিন যোগাযোগ করে যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশার সঙ্গে। তখন সুর পাল্টে বাদশা বলেন, আমি আপনাকে ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, আমার থেকে আপনি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছেন, এটার কোনো ভিত্তি আছে? একটা মানুষ থেকে চাঁদা চাইতে হলে কোনো না কোনো ভিত্তি থাকতে হবে। টেলিফোনে চাইতে হবে, অথবা লোক মারফত চাইতে হবে। বললে কি চাঁদাবাজি হয়ে যায়? এটা কি যেনতেন একটা বিষয়? এই কথাটা বোঝার জন্য, এই ব্যাখ্যাটা আপনাকে দিয়েছি।

বাদশা বলেন, আমার কথার মধ্যে কি ব্যাখ্যা আছে তা দেখে আপনি যা ইচ্ছে ছাপিয়ে দেন। তবে আমি আপনাকে উকিল নোটিশ পাঠাবো, উকিল নোটিশের মাধ্যমে আপনি আপনার জবাবটা দিবেন।

গণমাধ্যমকে যুবদল নেতা বাদশার এমন হুমকিকে কীভাবে দেখছে কেন্দ্রীয় যুবদল? চট্টগ্রাম প্রতিদিনের এমন প্রশ্নে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল বলেন, অভিযোগ উঠতেই পারে, তবে তিনি এভাবে বলতে পারেন না। অবশ্যই সংগঠন এটা ওন করে না। যদি বাদশা এভাবে বলে থাকে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব। আমরা তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবো।

নুরুল ইসলাম সোহেল বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছেন। এটা আমরা ওন করি। এজন্যই আমাদের কোটি কোটি সমর্থন রয়েছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm