একদিনের সময় পেল আড়ং, ধরা খেল মিমির ৫ প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রামে ভোক্তার অভিযানে একে একে ধরা পড়ছে নামিদামি প্রতিষ্ঠানের অভিনব প্রতারণা। এবার ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়ল অভিজাত মিমি সুপার মার্কেটের ৫ প্রতিষ্ঠান। দেশি পোশাক বিদেশি বলে বেশি দামে বিক্রি, পোশাক বিক্রির ক্রয় ভাউচার দেখাতে না পারা এবং অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রিসহ দুগ্ধজাত খাদ্যে মেয়াদ না থাকার অপরাধে এসব প্রতিষ্ঠানকে করা হয় জরিমানা।

এর আগে নগরের ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকার আড়ংয়ের শোরুমে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিপ্তর। এসময় বিভিন্ন পণ্য দেখে বেশকিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। বিশেষ করে শাড়ির দাম ছিল আকাশচুম্বী। ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে শাড়ি। তবে দামি শাড়িগুলোর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি নামি এই প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা না হলেও একদিনের সময় দেওয়া হয়েছে কাগজপত্র দেখাতে।

আরও পড়ুন : মেগামার্টে ‘বড়’ প্রতারণা

শনিবার (২২ মার্চ) সকালে নগরের ষোলশহর দুনম্বর গেট ও মিমি সুপার মার্কেটে এ অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ। এসময় তাঁকে সহায়তা করেন সহকারী পরিচালক আনিছুর রহমান, সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ, সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার এবং আলোকচিত্রী মো. আফতাবুজ্জামান।

অভিযানে মিমি সুপার মার্কেটের ইলিতে দেশি পোশাক বিদেশি বলে বিক্রি, ক্রয় ভাউচার দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ‘আকর্ষন’ নামের আরেক প্রতিষ্ঠানকে।

এদিকে অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রি করায় মিসেস সাথী স্টোরকে ৮ হাজার টাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে মেয়াদ না থাকায় ইফতার বাজারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন : ওরিয়েন্ট রেস্টুরেন্টে খেলা করে তেলাপোকা

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, দেশি পোশাক বিদেশি বলে বেশি দামে বিক্রি, ক্রয় ভাউচার না রাখা এবং অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে মিমি সুপার মার্কেটের ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতবারও এসব প্রতিষ্ঠান সতর্ক করা হয়েছিল।

উপপরিচালক আরও বলেন, আড়ংয়ের শোরুমে বেশি দামে যেসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এসবের ক্রয় ভাউচার দেখাতে পারেননি। একবার বলছেন, এসব তাদের ক্রয় করা; আবার বলেছেন, তাদের নিজস্ব তৈরি পণ্য। যদি ক্রয় করা পণ্য হয় তাহলে অবশ্যই তাদের ডকুমেন্ট দেখাতে হবে। ওনারা বলেছেন, সব ডকুমেন্ট ঢাকায় আছে। তবে এ কথাটি অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তারা একদিনের সময় চেয়েছেন ডকুমেন্ট দেখাতে। পরে আমরা সময় দিয়েছি। আগামীকাল (২৩ মার্চ) তারা ডকুমেন্ট আমাদের অফিসে নিয়ে আসবেন। এ কারণে আজ তাদের জরিমানা করা হয়নি। ডকুমেন্ট দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm