মৃত্যু—ঘুরপাক খাচ্ছে হত্যা না আত্মহত্যায়

মিরসরাইয়ে এক হোটেল শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের নাম মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালাম (৪৫)। তিনি সোনাগাজী উপজেলার পালগিরি গ্রামের মাহিন কামলা বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী লায়লা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মিরসরাই থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালাম উপজেলার সুফিয়া রোড গুলিস্তান ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন নাজিমের হোটেলের মেসিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। গত ১০ আগস্ট পাঁচদিনের ছুটি নিয়ে কালাম বাড়ি যান। একদিন থাকার পর ১২ আগস্ট কর্মস্থলে চলে আসেন। এসে হোটেলের স্টাফ রুমে আবুল কালাম এবং সোহাগ পাশাপাশি সিটে ঘুমান। দুপুর পর্যন্ত আবুল কালামের সাড়াশব্দ না পেয়ে সোহাগ হোটেল মালিক নাজিম উদ্দীনকে জানান। এরপর আবুল কালামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় মিরসরাই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

থানায় একটি লিখিত আবেদনে নিহতের স্ত্রী লায়লা বেগম জানান, পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে ঝগড়া করে আবুল কালাম ১২ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে চলে আসেন। এরপর সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টার যেকোনো সময় বিষপান করে মারা যান।

আরও পড়ুন: মিরসরাইয়ে বিষপানে কিশোরের আত্মহত্যা

তবে লায়লা বেগম মুঠোফোনে বলেন, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি। আমার স্বামী পাঁচদিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। হোটেল মালিক বিকাশে টাকা পাঠানোর কথা ছিল। টাকা না পাঠানোর কারণে একদিন থেকে চলে যায়। যাওয়ার পর হোটেলে পৌঁছে আমাকে ফোন করে। একজন মানুষ যদি বিষপান করে আত্মহত্যা করে তাহলে তার পাশে থাকা সোহাগ কিছু জানে না? এটা কেমন আত্মহত্যা? এখন হোটেলের মালিক নাজিম উদ্দীন প্রচার করছেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এটি নাজিম উদ্দীনের মিথ্যা অভিযোগ। আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে এ ধরনের কোনো লিখিত বক্তব্য থানায় দিইনি আমি। থানায় পুলিশ আমার থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। সেখানে তারা কী লিখেছে সেটা তো জানি না।

হোটেল মালিক নাজিম উদ্দিন বলেন, মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালাম দুদিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল। একদিন থেকে চলে আসে সে। এসে সকালে আমার সঙ্গে দেখা করে স্টাফ রুমে চলে যায় ঘুমানোর জন্য। আমি রাতে ডিউটি করি। আমি এ বিষয়ে আর কিছু জানি না।

মিরসরাই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) দিনেশ দাশগুপ্ত বলেন, হোটেল শ্রমিক মফিজুল ইসলাম প্রকাশ আবুল কালামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজিজ/ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm