চট্টগ্রামে বাকলিয়া থানার হাজী মনসুর আলী সড়কে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগে করা মামলায় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আসামি হয়েছেন কর্ণফুলীর ৮২ বছরের বৃদ্ধ মো. বাঁচা মিয়া। এ ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়েছেন বৃদ্ধ বাঁচা মিয়া।
শনিবার (১ মার্চ) নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে মিথ্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তিনি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমার বয়স ৮২ বছর। জীবনে কোনোদিন থানায় বা আদালতে আমার নামে কোনো মামলা হয়নি। অথচ এখন শুনতে হচ্ছে, আমি নাকি ১৯ নম্বর আসামি! এত বছর ব্যবসা করে খেয়েছি, রাজনীতির সঙ্গে কখনও যুক্ত ছিলাম না। এখন জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন অপবাদ সইবো কীভাবে?
এদিকে আবেদনটি গ্রহণ করে সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ওসি (তদন্ত) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বাঁচা মিয়া চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী থানাধীন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। জীবিকা নির্বাহের জন্য স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানায় হওয়া মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাঁচা মিয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমি যে এলাকায় থাকি সেখান থেকে ঘটনাস্থল প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে। আমি ওইদিনের ঘটনার কিছুই জানি না। এরপরও আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। ওইদিনের ঘটনায় মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মাহমুদা বেগম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, অভিযোগ যেহেতু দেওয়া হয়েছে বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন সেটি নিশ্চিত করা হবে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানার হাজী মনসুর আলী সড়কে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও মারধরের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মৎস্যজীবী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৩৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় আরও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মামলাটি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম জয় করেছেন।
বৃদ্ধ বাঁচা মিয়াসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— মহানগর যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন (৪০), দেওয়ানবাজার যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইকবাল (৩৫), ছাত্রলীগ নেতা তাহসিন (২২), আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল উদ্দিন (৫০), যুবলীগ নেতা মো. ফারুক (৩৫), শ্রমিক লীগ নেতা মো. কোরবান আলী (৩৮) ও ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইফুল (২০)।
জেজে/আলোকিত চট্টগ্রাম
