সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো ঘাটতি নেই। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর আছে, শিপিং করপোরেশন আছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ আছে— কোনো কিছুরই ঘাটতি নেই। ঘাটতি আছে একটা জায়গায়— সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং এই সম্ভাবনাময় সেক্টরকে বিকশিত করার মনন ও অঙ্গীকারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যথেষ্ট সম্ভাবনা আমাদের ছিল, আমরা সেটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু পারিনি বিধায় আর পারব না, সেভাবে ভাবছি না—পারতে চাইছি। দিনশেষে যে অর্জন, তা আমার কাছে খুবই ম্রিয়মাণ মনে হয়। কেন এমন হচ্ছে, তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে সঠিক পথে অগ্রসর হতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের যারা ক্যাডেট আছেন, তারা সাহসী ও পরিশ্রমী। একটা কথা বলি— যারা আইসোলেটেড থাকতে পারে, পৃথিবীতে তারাই শ্রেষ্ঠ সন্তান। সাগরে থেকে মোহ থেকে দূরে থাকা যায়, ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কমফোর্টকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
মেরিন সেক্টরের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, তা চিহ্নিত করুন, সরকারকে জানান, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেবে। আটশ কোটি মানুষের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আঠার-বিশ লাখ মানুষের হাতে। এখান থেকেই বোঝা যায় এই সেক্টর কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই একাডেমি দক্ষ ক্যাডেট তৈরি করে আসছে এবং দেশ-বিদেশে মেরিটাইম খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চট্টগ্রামের জন্য এটি ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। আধুনিক যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো ও সরকারি সহযোগিতায় একে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এই একাডেমি বাংলাদেশের সমুদ্র ও বন্দরভিত্তিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী মেরিটাইম হাব হিসেবে গড়ে উঠবে— এ ব্যাপারে আমাদের আরও সজাগ হতে হবে। আপনারা যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন, বাংলাদেশের পরিচয় বহন করবেন। পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই আমাদের প্রত্যাশা।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবিএম শামীম বলেন, নীতি থেকে বাস্তবায়ন এবং সম্ভাবনা থেকে উৎকর্ষের পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
তিনি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ নৌচলাচল, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ফজলার রহমান এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স এসোসিয়েশন সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে ক্যাডেটদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথিকে অভিবাদন প্রদান, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, শোভাযাত্রা, বেলুন উড্ডয়ন, বিনোদন পাহাড়ে বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কেএস/আলোকিত চট্টগ্রাম


