বাকলিয়ায় ‘মিনি বেবী লটারির’ আড়ালে মাদক—জুয়ার বড় বাণিজ্য

নগরের বাকলিয়া থানা এলাকার শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন একটি ঝুপড়ি ঘরে প্রশাসনের নাকের ডগায় ‘মিনি বেবী লটারি’ নামে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল জমজমাট জুয়ার আসর। শুধু জুয়ার আসর নয়, নিয়মিত বসত মাদকের হাটও। রীতিমত পাহাড়া বসিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে চলছিল এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে গোপন সংবাদে নগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ হাতেনাতে ৫ জুয়াড়িকে আটক করে। তবে অভিযানের আগেই পালিয়ে গেছে অনেকে।

আরও পড়ুন: দুই তরুণীর কাছে কোটি টাকার মাদক!

আটকরা হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার সীতরহাটের আহম্মদ আলীর ছেলে মো.আফজাল হোসেন (৩৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার ছদুরা শরীফ এলাকার মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মো.বশির মিয়া (৩৫), মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদি খাঁন থানার বড় পাউলদিয়ার মো.আরিফ শেখের ছেলে সুজন শেখ (৩৫), নারায়bগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার তাগাড়পাড়ের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো.শিহাব উদ্দিন (২৭) এবং লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে মো.বাচ্চু আলম (৪০)।

প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় থাকত সেই লটারির দোকানের সামানে-আলোকিত চট্টগ্রাম

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন পুলিশ বক্সের পাশে প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার রমরমা আসর চলছিল। জসিম, শাহ আলম ও বেলাল— এই তিনজনের নেতৃত্বে চলছিল মাদক ও জুয়াল আসর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলত জুয়া খেলা। যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হতো। বাকলিয়া থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল দিনের পর দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, লটারির নামে এখানে প্রতিদিন ইয়াবা, মদ ও জুয়ার আসর বসে। ফলে এলাকার তরুণ ও যুবকরা বিপথে যাচ্ছে। এসব অনৈতিক কাজে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনকে এসব বন্ধে কঠোর হওয়ার অনুরোধ করছি।

আরও পড়ুন: পলাতক ৩ মাদক কারবারির সাজা

যোগাযোগ করা হলে মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. দেলোয়ার হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শাহ আমানত ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মিনি বেবী লটারি নামে জুয়ার আসর চলছিল—এমন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জুয়ার বোর্ড থেকে ৫ জুয়াড়িকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় নগদ ১ হাজার ৯২০ টাকাসহ বিভিন্ন জুয়া খেলার সরঞ্জাম।

তিনি আরও বলেন, অভিযান টের পেয়ে অনেকে আগেই পালিয়ে গেছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বাকলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এএইচ/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm