আনোয়ারায় মা-মেয়ে খুন, তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশসহ ২২ জনের জবানবন্দি

আনোয়ারায় মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে খুনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুন) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্ত, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করা হয়েছে।

গত ১৩ জুন রাত ১০টার দিকে আনোয়ারার পরৈকড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। এ সময় শিশু প্রিয়াস বড়ুয়া গুরুতর আহত হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল আসামি তেজপ্রিয় বড়ুয়াকে (৪০) শনাক্ত করা হয়। ১৪ জুন সকালে পটিয়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে তেজপ্রিয় খুনের দায় স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন রাত সোয়া তিনটার দিকে পটিয়া রেলস্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং ঘটনাস্থলের পাশে চানখালি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তেজপ্রিয়।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার তদন্তে চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মা ও মেয়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত শিশু অর্ক বড়ুয়ার মাথায়ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি মেডিকেল রিপোর্টে উঠে এসেছে।

যোগাযোগ করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করেছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।

কেএস/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm