ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সংঘর্ষের পর আজ (৩১ আগস্ট) আবার বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনও। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।
আজ দুপুর তিনটার দিকে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু. আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি জানানো হয়।
উপজেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হাটহাজারী উপজেলাধীন ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব দিক থেকে রেলগেট পর্যন্ত উভয় দিকের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। এছাড়া ২ নম্বর গেট এলাকায় সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ, গণজমায়েত কিংবা অস্ত্র পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উল্লিখিত এলাকায় পাঁচজনের বেশি ব্যক্তি একসঙ্গে চলাচল করতে পারবেন না।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে হঠাৎ রক্তাক্ত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সংঘর্ষে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর সব বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের কারণেই এমন পরিস্থিতি, বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। রাত সাড়ে তিনটার দিকে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেটের কাছে একটি ভবনে ভাড়া থাকেন ওই ছাত্রী। শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি ওই ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তর্ক হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান তাঁকে মারধর করেন।
এ ঘটনায় ২ নম্বর গেটে থাকা শিক্ষার্থীরা দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ধাওয়া করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর স্থানীয় লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে।
এদিকে মারধরে আহত ৭০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন। তবে অন্তত ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করার চিহ্ন রয়েছে। অন্যদের লাঠি, কাঠ, ইট ইত্যাদি দিয়ে জখম করা হয়েছে। একসঙ্গে এত আহত শিক্ষার্থী তিনি আগে দেখেননি বলে জানান।
এদিকে আজ বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। দেড় ঘণ্টা মুখোমুখি অবস্থানের জোবরা গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রান্তে কয়েক শ শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। বিপরীত দিকে ছিলেন এলাকাবাসী। দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মো. শামীম উদ্দিন খান, মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মো. হায়দার আরিফসহ শিক্ষকেরা দুপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। ইটের আঘাতে আহত হন অন্তত ১০ শিক্ষার্থী। তাঁদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল।
আজ সংঘর্ষ শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রক্টর ও পুলিশের তিনটি যানবাহন ভেঙেছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আলোকিত চট্টগ্রাম
