দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজণন ক্ষেত্র হালদা নদীতে একের পর এক মরছে ডলফিন। মরছে মা মাছও। ১৫ দিন আগে হালদায় ভেসে উঠে মরা কাতলা মাছ। আর আজ (১৫ মে) মিলল ৫ কেজি ওজনের ডিমওয়ালা মরা মৃগেল মাছ।
সকাল ১১টার দিকে নদীর রাউজান অংশের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে মাছটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি স্থানীয়দের সহায়তায় মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রোসাঙ্গীর আলম জানান, মরা মৃগেল মাছটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে ।
জানা যায়, হালদা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন নদীর পানি দুষণের ফলে একের পর এক মরছে মা মাছ ও ডলফিন। গত কয়েক বছরে নদীতে অর্ধশতাধিক ডলফিন ও শতাধিক মা মাছের মৃত্য হয়েছে।
আরও পড়ুন : হালদায় ডলফিন মরছেই
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার আলমগীর হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুম চলছে। এ সময়ে হালদায় প্রচুর পরিমাণ মা মাছ আসছে । আজ সকালে ৫ কেজি ওজনের একটি মরা মৃগেল মাছ আজিমের ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাছটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে মরা মাছটি নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু অসাধু মাছ শিকারি এবং নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণেই মা মাছের মৃত্যু হচ্ছে। এভাবে হালদার মা মাছ ও ডলফিন মারা গেলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হালদাপাড়ে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
যোগাযোগ করা হলে হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দূষণ, অবৈধ জাল, বড়শি ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে হালদা নদী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিষাক্ত বর্জ্য দ্বারা হালদার জলজ বাস্তুতন্ত্রের পানির বিভিন্ন ভৌত-রাসায়নিক গুণাবলি পরিবর্তন হয়ে দূষিত করছে হালদার জলজ পরিবেশ। নদী দূষণ থেকে হালদা জলজ বাস্তুতন্ত্রকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব শাখা খালের মাধ্যমে হালদায় কলকারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সেসব কারখানা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এসএ/আরবি
