শারদীয় দুর্গোৎসবের পর্দা নামছে আজ (১৩ অক্টোবর)। আজ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরবেন দেবী দুর্গা। তবে এবার নবম ও দশমী পূজা ছিল একইদিন, অর্থাৎ গতকাল। ফলে আজ শুধু বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল থেকে মণ্ডপগুলোতে বিদায়লগ্নের বিষণ্ণতা থাকলেও আনন্দেরও কমতি নেই।
পঞ্জিকা মতে, ৯ অক্টোবর (বুধবার) ষষ্ঠীপূজার মধ্যদিয়ে শুরু হয় পাঁচদিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।
শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যে আগমন করেন দোলা বা পালকিতে। আর গমন করবেন ঘোটকে বা ঘোড়ায়। এবার আসা-যাওয়ার উভয় ক্ষেত্রেই ফল অশুভ।
আরও পড়ুন : উৎসবের মাঝে বিদায়ের সুর
এদিকে শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে দশমী পূজা শেষে ভক্তদের দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি। এসময় ভক্তরা মায়ের কৃপা প্রার্থনা করেন।
পঞ্জিকা মতে, এবার তিথির কারণে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) একইদিন অষ্টমী ও নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী তিথি ছিল সকাল ৬টা ৫ মিনিট থেকে ৬টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় সন্ধিপূজা। এরপর নবমী তিথির সূচনা হয়। ফলে শনিবার নবমীর অধিক পূজার পাশাপাশি দশমী পূজা করা হয়।
এদিকে আজ সকালে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান-মিষ্টি এবং তেল নিয়ে ছুটে আসেন মণ্ডপে। স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীরাও আসেন ১০৮ বার শ্রীশ্রী দুর্গা লেখা চিরকুট নিয়ে।
এসময় নারীরা দেবী দুর্গার কপালে সিঁদুর, মুখে দেন পান-মিষ্টি এবং চুলে তেল। শিক্ষার্থীরা শ্রীশ্রী দুর্গা লেখা চিরকুট গুজে দেন দেবীর হাতে। এরপর নারীরা একে অন্যকে তেল-সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে মিষ্টিমুখ করান। মেতে উঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। এ আনন্দময় স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি ও সেলফি তোলার আনন্দে মেতে উঠেন সবাই।
এদিকে প্রতিমা নিরঞ্জন নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর ও সিটি করপোরেশন যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে।
পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ছাড়াও কর্ণফুলী অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও কাট্টলী সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে নির্দেশনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের হিসাব অনুযায়ী এবার নগরে ২৯২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


