এবার একটু ভিন্নভাবে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ (১২ অক্টোবর) নবমী, আবার দশমীও। তবে দশমী হলেও আজ হবে না বিসর্জন। উৎসবটা দ্রুত শেষ হোক, এটা যে চাইছেন না কেউই!
এদিকে মণ্ডপে মণ্ডপে আজ উৎসবের পাশাপাশি বাজছে বিদায়ের সুর। মায়ের বিদায়বেলায় ভারাক্রান্ত ভক্তদের মনও।
পঞ্জিকা মতে, এবার তিথির কারণে একইদিন অষ্টমী ও নবমী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী তিথি ছিল সকাল ৬টা ৫ মিনিট থেকে ৬টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে শেষ হয় সন্ধিপূজা। এরপর নবমী তিথির সূচনা হয়। ফলে আজও নবমী অধিক পূজার পাশাপাশি দশমী পূজা হয়।
আরো পড়ুন : আজ সপ্তমী—মণ্ডপে মণ্ডপে নানা কর্মসূচি, কাল কুমারি পূজা
নবমী অধিক পূজা আজ সকাল ৬টা ৩ মিনিট থেকে ৬টা ১২ মিনিটের মধ্যে শেষ করা হয়। এরপর শুরু হয় দশমীর পূজা। দশমী তিথি আজ সকাল ৮টা ২৫ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত। পূজা শেষে ভক্তদের দেওয়া হয় অঞ্জলি।
এদিকে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে শুক্রবার সকাল থেকে মণ্ডপে ভিড় করেন উপবাসরত ভক্তরা। তারা অঞ্জলি দিয়ে কৃপা প্রার্থনা করেন মা দুর্গার। একইসঙ্গে দেশের মঙ্গল কামনা করেন।
মহাষ্টমীর দিন সকালে নগরের পাথরঘাটা রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃ মন্দিরে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। এবার কুমারী পূজার আসন অলংকৃত করেন ১০ বছরের প্রীতি ধর ও ১১ বছরের সুভদ্রা বিশ্বাস। এবার তাদের শাস্ত্রীয় নাম ‘অপরাজিতা’। শাস্ত্রমতে, অপরাজিতা নামে কুমারী পূজা হলে ‘অভিষ্ঠ সিদ্ধ’ লাভ হয়। কুমারী পূজা উপলক্ষে শান্তনেশ্বরী মাতৃ মন্দিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নামে। কুমারী মাকে দেখতে এবং কৃপা লাভের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সের নারী-পুরুষ।
আরও পড়ুন : মহাষ্টমীতে ‘অপরাজিতা’, কুমারী পূজায় প্রীতি—সুভদ্রা
এছাড়া মহাষ্টমীর রাতেও মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, আবার কেউ স্বজনের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে।নগরের চকবাজার, জেএমসেন হল, রাজাপুকুর লেইন, চেরাগী পাহাড়, জামালখান, টেরিবাজার, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালী ও পাথরঘাটা এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য।
এদিকে আজ শেষদিনেও মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীর ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম
