গ্রামীণ ব্যাংকের চাঁদপুর জেলার একটি শাখার ম্যানেজার ছিলেন মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন গ্রাহকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রায় ৪১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করলে তাঁকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
এদিকে সাজা থেকে বাঁচতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছদ্মবেশে থাকতেন আনোয়ার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রায়ের সাত মাসের মাথায় র্যাবের জালে ধরা পড়েন তিনি। ফেনী থেকে গ্রেপ্তার হন আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
বুধবার (১২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর মিডিয়া কর্মকর্তা মো. শরিফ উল আলম।
গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার উলুপাড়া এলাকার মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রামীন ব্যাংকের চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোপটী (পশ্চিম) শাখার ম্যানেজার ছিলেন আনোয়ার। ওই সময় ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তিনি ৪০ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর দুদক কুমিল্লা জোনের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা বাদী হয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর অফিস থেকে গ্রেপ্তার হন আনোয়ার। পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এদিকে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আসামির অনুপস্থিতিতে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর মামলায় রায় দেন আদালত। রায়ে আনোয়ারকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ২৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ড নিশ্চিত করতে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
গোপন সূত্রে র্যাব জানতে পারে, আনোয়ার ফেনী জেলার ছাগলনাইয়াা থানার পাঠাননগর এলাকায় থাকছেন। এ অবস্থায় র্যাবের দুটি দল অভিযান চালিয়ে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানায়।
আরএস/আলোকিত চট্টগ্রাম
