ওমরগণি এমইএস কলেজছাত্র শাওন খুনের নেপথ্যে কী

ওমরগণি এমইএস কলেজের অনার্সে অধ্যয়নরত শাওন বড়ুয়া (২৫) ইভেন্ট ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। ঘটনার আগের দিন (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি ইভেন্টের কাজ করতে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় যান শাওন। মোটরসাইকেলে রওয়ানা দেওয়া শাওনের কাছে এ সময় ক্যামেরাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার সরঞ্জাম ছিল।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় অনন্যা আবাসিক এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে খোলা মাঠ থেকে। এসময় একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন, একটি ওয়ালেট ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সেদিন অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য নিয়ে যাওয়া দামি ক্যামেরাটি পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় খুনের নেপথ্যে কি ওই দামি ক্যামেরা, নাকি অন্য কোনো কারণ লুকিয়ে আছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বেরিয়ে আসবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য।

জানা গেছে, শাওন বড়ুয়া নগরের জামালখান এলাকার ট্রেন্ডিড ক্যাপচার নামের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের হয়ে কাজ করতেন। এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সিহাব শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ছুরি মেরে ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রকে খুন

জানতে চাইলে সিহাব শাহরিয়ার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শাওন আমার বিভিন্ন ইভেন্টে কাজ করেছে। তার সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে সোমবার ইভেন্টের একটি কাজে রাত ৭টার দিকে ক্যামেরাসহ ফটোগ্রাফির বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায় আমার কাছ থেকে। এসব সরঞ্জামের দাম প্রায় চার লাখ টাকা । এছাড়া আমার ব্যবহারের মোটরসাইকেলটিও সে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, সোমবার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ইভেন্টের কাজ করতে গিয়েছিল শাওন। এদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার সঙ্গে আমার শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। তখন সে জানায় কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার একটি ক্লাবে ইভেন্টটি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এ ইভেন্টটি যারা কন্ট্রাক্ট করেছিল তাদের বাড়িতে হবে। এরপর শাওনের সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আগে কোনোদিন সে আমার কাছ থেকে কিছু চাইনি। সেদিন প্রথমবারের মতো ইভেন্টের কাজ করতে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চেয়ে নিয়ে যায় শাওন।

যোগাযোগ করা হলে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, অনন্যা আবাসিক এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনের খোলা মাঠ থেকে শাওন বড়ুয়া নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন, একটি ওয়ালেট ও একটি ব্যাগ ও কিছু ফটোগ্রাফির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তবে কোনো ক্যামেরা পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কী কারণে খুন হয়েছে এ নিয়ে তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুততম সময়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে অনন্যা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে খোলা মাঠ থেকে শাওন বড়ুয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের শিলঘাটা গ্রামের টিপু বড়ুয়ার ছেলে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm