দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে মো. ইদ্রিছ-রুবি আকতারের সংসার। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসেছিলেন তারা। কিন্তু সেই রাত যে তাদের জন্য কালরাত হয়ে দাঁড়াবে কে জানত।
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মুহূর্তেই এক ছেলে ও এক মেয়েকে হারালো এ দম্পতি।
সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের মিনজিরীতলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রাতের খাবারের পর ইদ্রিস-রুবি দম্পতির দুই বছরের শিশুকন্যা লুপা ওই ঘরেই ঘুমিয়ে পড়ে। আরেক ছেলে মো. মিরহাজ (১৩) তখন ওইখানে বসে মোবাইলে কার্টুন দেখছিল। দুজনকে কাছারি ঘরে রেখে বাইরে থেকে দরজা আটকে বড় ছেলে হেফাজুল ইসলাম (১৬) ও অপর মেয়ে পুস্পা আকতারকে নিয়ে বেরিয়ে যান ইদ্রিস-রুবি। ঘর থেকে বের হয়ে অল্প দূরত্বে যেতেই ভয়াবহ শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে কাছারি ঘরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় কাছারি ঘরে থাকা লুপা ও মিরহাজ।
এ সময় কাছারি ঘরের সঙ্গে লাগোয়া দুই প্রবাসী ইলিয়াছ ও আবুল কাশেমের ঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘর তিনটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ইদ্রিস ওমান ও কাশেম থাকতেন মালয়েশিয়া। এক মাস আগে তারা দেশে ফেরেন।
আরও পড়ুন : জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণে যুবক নিহত
এরপর ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত মিরহাজ স্থানীয় বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। এদিকে দুজনের মৃত্যুর সংবাদ শুনে সহপাঠী ও প্রতিবেশিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আগুনে পুড়ে যাওয়া সন্তানদের লাশ দেখার পর থেকে মা রুবী আক্তার বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং এলাকার লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি বাড়িতেই গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না হতো। আগুনে প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এখানকার গৃহবধূদের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের তেমন প্রশিক্ষণ কিংবা ধারণা নেই।
ধারণা করা হচ্ছে, চুলায় গ্যাস ছাড়ার সুইচ কোনো কারণে খোলা ছিল। ওই অবস্থায় বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানোর জন্য সুইচ অন করলে সুইচের মধ্যে স্পার্ক করে আগুন ধরে যায়।
সরল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, তিন পরিবারে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাঁশখালী উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। নিহত দুজনের জন্য সরকারিভাবে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারে খাদ্য ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
