ইসকনের ২৬ জনের ‘কাঁধে উঠল’ প্রবর্তক সংঘের মামলা

মামলা-পাল্টা মামলায় তুঙ্গে উঠেছে ধর্মীয় সংগঠন প্রবর্তক সংঘ ও -ইসকনের দ্বন্দ্ব। ইসকনের একাধিক মামলার পর এবার পাল্টা মামলা করেছে প্রবর্তক সংঘ।

ইসকনের ৪ জন ও অনুসারী ২২ জনসহ মোট ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে প্রবর্তক সংঘ।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের দায়ে এ মামলা করা হয়।

গত ২৬ জুলাই বিকালে পাঁচলাইশ মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে। এরপর লক্ষণ কান্তি দাশ প্রকাশ লীলারাজ, দেবব্রত দাশ প্রকাশ দিব্য নিমাই ও রুপন দাশ প্রকাশ রুপেশ্বরসহ আরও ২২ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদি তিনকড়ি চক্রবর্তী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের দায়ে ইসকনের ৪ জন ও অনুসারী ২২ জনসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

মামলা সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫(২) ২৮(২), ২৯ (১), ৩১(২) ও ৩৫ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১১।’

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ‘প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরও বাঁচাও, হোক প্রতিবাদ’ শীর্ষক ফেসবুক আইডি থেকে প্রবর্তক সংঘ সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাস চন্দ্র লালা, সহসভাপতি অধ্যাপক রণজিৎ কুমার দে’র বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা, ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ ও প্রকাশ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে উসকানি প্রদানের মাধ্যমে একে অপরের যোগসাজশে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেছেন উল্লেখিত আসামিরা। যা প্রবর্তক সংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্বের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তরে আঘাত করেছে। এতে প্রবর্তক সংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অনুসারি, পূজারিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালে মন্দিরের পূজা পরিচালনার জন্য পূজারি নিয়োগের আবশ্যকতা দেখা দিলে ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাশ প্রকাশ চন্ডী দাশ বালা পূজারির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তদানিন্তন প্রবর্তক গভর্নিং বডিকে অনুরোধ করেন। আলোচনাক্রমে উভয়পক্ষের মধ্যে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে তাঁকে পূজারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সনাতন ধর্মমতে, মন্দিরের স্বত্ব স্বার্থে ও অর্থে পূজারির অধিকার নেই। কিন্তু উক্ত ব্যক্তি পূজারির দায়িত্ব গ্রহণ করলেও নিয়মিত পূজা-অর্চনায় মনোনিবেশ না করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে পূজার দায়িত্ব দিয়ে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। চুক্তিপত্র বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমানে তারা নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাঁচলাইশ মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. কবিরুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্ত করার জন্য সাব-ইন্সপেক্টর আফতাব হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জুলাই রাতে প্রবর্তক সংঘের দুই নেতার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির মামলা করে ইসকন। নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন ইসকনের সেবাদাস জুয়েল শীল।

মামলায় প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী ও সহসভাপতি রণজিৎ কুমার দে-সহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়ে।

এরপর রোববার (১৮ জুলাই) সকালে প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়।

ইসকনের দুই মামলার পর পাল্টা মামলা দায়ের করল প্রবর্তক সংঘ। বর্তমানে মামলা ও পাল্টা মামলায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ধর্মীয় এই দুটি সংগঠন।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm