পেশায় চোর—১০ বছরে ৭০০ নিখুঁত চুরি, বেশিরভাগই টার্গেট স্বর্ণে

পেশা তাদের চুরি। এই দুই চোর মিলে একদশকে ৭০০ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে! চুরিতে তাদের টার্গেটের শীর্ষে থাকে ‘স্বর্ণ’।

পেশাদার এই দুই চোরকে বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। নগরের জেএম সেন স্কুলের সামনে থেকে গ্রিলকাটা এই দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো- মো. শরিফ (৩৮) ও মো. আবদুল জলিল (৩০)।

শরিফের বাড়ি চাঁদপুর হলেও থাকে নগরের খুলশী ওয়ালল্যাস ২ নম্বর কলোনিতে। তার বাবা মৃত আব্দুর রশিদ। জলিলের বাড়ি কুমিল্লা হলেও সে থাকে খুলশীর  মাস্টার লেন গীর্জা স্কুল এলাকায়। তার বাবার নাম মো. বাবুল।

আরও পড়ুন: ‘পুলিশের নতুন আবিষ্কার’ ভয়ঙ্কর এক কোটিপতি চোর

শরিফ ও জলিলের কাছ থেকে ১টি সেলাই রেঞ্জ, ১টি ছেনী ও ১টি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নামে চকবাজার থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এর আগে চুরির মামলায় শরিফ ৫ বার এবং জলিল ২ বার গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু জেল থেকে জামিনে বের হয়ে ফের চুরি করে তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল নগরের নন্দনকানন হরিশ দত্ত লেনের একটি ভবনে ভোরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় ৩৫ ভরি স্বর্ণ, মুক্তার মালা, ডায়মন্ড নোসপিনসহ নগদ অর্থ লুট করে চোর। ভুক্তভোগী পরদিন মামলা করেন কোতোয়ালী থানায়।

Thai Food

এরপর গত মে’তে সিরাজদৌল্লা রোডের কাজেম আলী লেনে একটি বাসার ভেন্টিলেটর ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে চোর ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী ১৯ মে মামলা করেন কোতোয়ালী থানায়।

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে চুরির ঘটনা ঘটে রহমতগঞ্জ এলাকায়। সেখান থেকেও আলমিরা ভেঙে স্বর্ণসহ নগদ দেড় লাখ টাকা চুরি করে চোর। ২৪ জুলাই এ ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

এ তিনটি চুরির ঘটনায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ তদন্তে নামে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযান চালিয়ে ফিরিঙ্গীবাজারের জেএম সেন স্কুলের সামনে থেকে একটি রিকশাসহ দুই চোরকে আটক করা হয়।

আর পড়ুন: ‘হঠাৎ কোটিপতি’—স্বর্ণ ব্যবসায়ী, আড়ালে চোরাই স্বর্ণ বাণিজ্যের ফাঁদ

পুলিশ জানায়, আটক দুইজন পেশাদার চোর। আগেও তারা বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছে। কিন্তু বের হয়ে পুনরায় নেমে পড়ে চুরিতে। চুরি করার আগে তারা বিভিন্ন এলাকায় টহল দেয় রিকশা নিয়ে। যেসব বাসায় সন্ধ্যার পর থেকে বাতি জ্বলে না তারা ওইসব বাসাকেই টার্গেট করে। এরপর রাতে শুরু হয় চুরির মিশন। আর এই মিশনের প্রধান টার্গেট থাকে স্বর্ণ।

দরজা কিংবা গ্রিল ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করেই লুট করে স্বর্ণসহ নগদ টাকাসহ দামি আসবাব। এভাবে একদশকে ৭০০ চুরি করেছে শরিফ ও জলিল।

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm