৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন থাকে শত রোগী

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুগ্ম সচিব শাব্বির ইকবাল

দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি থাকে ৯০ থেকে ১০০ রোগী। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব শাব্বির ইকবাল।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে তিনি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি।

পরিদর্শনকালে যুগ্ম সচিব হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ল্যাব, এক্স-রে ইউনিটসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পটিয়া ছাড়াও কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও আনোয়ারা উপজেলার অনেক রোগীও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে প্রতিদিন বহির্বিভাগে কয়েকশ রোগী চিকিৎসা নেন এবং অন্তর্বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকে।

যুগ্ম সচিব শাব্বির ইকবাল বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেই মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পটিয়া হাসপাতালের রোগীর চাপ আমরা দেখেছি। এ ধরনের হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রোগীর চাপ বেশি থাকলেও সেবার ক্ষেত্রে যেন কোনো অবহেলা না হয়। রোগীদের সাথে মানবিক আচরণ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় যুগ্ন সচিব হাসপাতালের যেসব সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানালে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল। এখানে রোগীর চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবুও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

পরিদর্শনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা যুগ্ম সচিবের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ ওসমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব, ইপিআই, এক্স-রে, এসআই), ফার্মাসিস্ট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা বলছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হলেও শয্যা সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মধ্যে সেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতালটিকে। রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটি দ্রুত ১০০ শয্যায় উন্নীত করা গেলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm