চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় একই দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) দুইজন নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েকজন যাত্রী।
মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুই মৃত্যু নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে আলোকিত চট্টগ্রাম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকীর্ণ রাস্তা ও দ্রুত গতির কারণেই মূলত বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে।
প্রথম দুর্ঘটনা
শনিবার বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার যাচ্ছিল একটি লেগুনা (ছ-১১-১১৩৭)। গাড়িটি পটিয়ার গৈড়লার টেক পৌঁছতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭০ বছর বয়সের পথচারী শের মোহাম্মদকে ধাক্কা দেয়। এরপর লেগুনাটি রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে আছড়ে পড়ে। গাছ ও লেগুনার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শের মোহাম্মদ। নিহত শের মোহাম্মদ পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের গৈড়লা এলাকার মৃত মোহাম্মদ হামিদের ছেলে।
এ ঘটনায় লেগুনার কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তবে তাদের নাম-ঠিকানা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বলছন, সড়কের সংকীর্ণ অংশে অতিরিক্ত গতিতে চলছিল লেগুনাটি। এটিই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক ওয়াসিম আরাফাত বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাই। লেগুনা চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। আমরা তাদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছি এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছি। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের গতিসীমা মেনে চলতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দ্বিতীয় দুর্ঘটনা
প্রথম দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা পর ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে মহাসড়কের পটিয়ার জলুয়ার দিঘি পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম আসছিল যাত্রীবাহী পূরবী পরিবহনের একটি বাস। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে সাতকানিয়া অভিমুখী টাইলসবোঝাই পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পিকআপের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির সিটে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক মো. ওয়াসিম (৪২)। তিনি নোয়াখালী জেলার আব্দুল কাদেরের ছেলে।
খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পিকআপ কেটে চালকের মরদেহ উদ্ধার করেন। ওই দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তবে কেউ গুরুতর আঘাত পাননি।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার বাদল বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পিকআপ কেটে মরদেহ উদ্ধার করি। বাস চালকের দ্রুতগতি এবং সড়কের বাঁক ঘুরতে গিয়ে এমন সংঘর্ষ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
অপরদিকে পটিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, দুটি দুর্ঘটনায় মোট দুইজন নিহত হয়েছেন। লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পূরবী বাস এবং লেগুনা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চালক ও সহকারীরা পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ওসি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আমরা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে পাহারা বাড়িয়েছি।
পটিয়া-লোহাগাড়া অংশেই বেশি দুর্ঘটনা
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে পটিয়া-লোহাগাড়া অংশে। সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৪৮ কিলোমিটার। কিন্তু সংকীর্ণতা, আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে তিন ঘণ্টার পথ যেতে লাগে পাঁচ ঘণ্টা।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে জাইকার অর্থায়নে চার লেন প্রকল্প চলছে, কিন্তু বাইপাস ও ফ্লাইওভারের কাজ দেরি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে গতিসীমা, সিসিটিভি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। আমরা প্রকল্পের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি, যাতে যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসে।
এদিকে মহাসড়কের পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীবাহী যানগুলোতে ওভারলোডিং এবং অতিরিক্ত গতি একটা বড় সমস্যা। চালকদের অনেকেই নিয়ম মানেন না। সরকারি স্তরে কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা আমাদের সদস্যদের সচেতন করছি, কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা দরকার।
আলোকিত চট্টগ্রাম


