১৮০ দিনের চসিক ‘প্রশাসক’ সুজনের ১৩ দুর্নীতি তদন্তে কমিটি মন্ত্রণালয়ের

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি খাতে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ তোলে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অফিস আদেশে সুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। দুর্নীতি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদনও দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘অদৃশ্য চাপে’ চসিক প্রশাসক সুজনের অনিয়ম তদন্ত, মাঠেই শেষ ২৩০ দিন

Yakub Group

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীকে আহ্বায়ক, যুগ্ম সচিব (পলিসি সাপোর্ট অধিশাখা) নুমেরী জামানকে সদস্য এবং উপসচিব (সিটি করপোরেশন-২ শাখা) মো. জহিরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে ১৮০ দিনের জন্য প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নিয়ো দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নানা খাতে দুর্নীতি করেছে বলে জানায় দুদক।

জানা যায়, সাবেক প্রশাসক সুজন দায়িত্ব পালনের সময় সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পাম্প থেকে তেল না কিনে বন্ধুর পাম্প থেকে তেল কিনতেন। শুধু তাই নয়, তেল চুরির দায়ে বরখাস্ত ব্যক্তিকে পুনরায় নিয়োগও দেন তিনি।

স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে করপোরেশনের জায়গা ও দোকান তাঁর স্ত্রী ও বন্ধুদের লিজ দেন সুজন। করপোরেশনের টাকায় কেনা আসবাবপত্র নিজের বাসায় নিয়ে যান। এক প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করেন। স্বজনপ্রীতি করে এক কর্মকর্তাকে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন।

এছাড়া অবৈধভাবে চারজনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেন সুজন। অবসরে চলে যাওয়া এক কর্মকর্তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

যেসব জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে

পোর্ট কানেকটিং রোডের চৌ-রাস্তার উত্তর পাশে ৬০০ বর্গফুট খালি জায়গা মীর আহমেদকে এককালীন ৬ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আকতার হোসেনকে মাসিক প্রতি বর্গফুট সাড়ে ৯ টাকা ভাড়ায় বিআরটিসি মার্কেট সংলগ্ন ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের পাশে ২৮৯ বর্গফুট ভবনের একটি অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরীকে ৩ টাকা মাসিক ভাড়ায় দেওয়া হয় মাদারবাড়িতে একতলার ২০০ বর্গফুট ভবন।

৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস ভবনের উত্তরে ১ হাজার ৭৫৭ বর্গফুট খালি জায়গা প্রতি বর্গফুট ভাড়া ১০ টাকায় সমীর মহাজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

খলিলুর রহমান নাহিদকে ইউনুছ মিয়া মেটারনিটি সংলগ্ন ১ হাজার ৬৪ বর্গফুট খালি জায়গা প্রতি বর্গফুট ৫ টাকায় এবং মাদারবাড়ি ওয়ার্ড অফিসের পাশে ৬ হাজার ৫৩৪ বর্গফুট জায়গা ১ টাকা ৮০ পয়সা করে দেওয়া হয়।

ঝুমুর সিনেমা হলের পাশে ৫৪০ বর্গফুট ৫ টাকা করে রাবেয়া বেগমকে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কে সি দে রোডে গণশৌচাগারের পাশে ৩৭৬ বর্গফুট জায়গা প্রতি বর্গফুট ১০ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয় জানে আলমকে।

আইএফআইসি ব্যাংকের প্রথম তলার ছাদের ওপর ৩৯০ ফুট জায়গা মাসিক ৫ হাজার ৮৫০ টাকা ভাড়ায় শাহজাহান চৌধুরীকে ভাড়া দেওয়া হয়।

এছাড়া শাহ আমানত মার্কেটে ১৫৩ বর্গফুট জায়গা মাসিক ২ হাজার ২৯৫ টাকায় এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে খোরশেদ আলম সুজনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

আরএস/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm