হালদা—ভুল বিশেষজ্ঞদের, খেসারত ডিম সংগ্রহকারীদের

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ও জোয়ারের মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানির কারণে এবার হালদা থেকে আশানুরূপ ডিম সংগ্রহ করা যায়নি। এখন কুয়ায় ডিম ও রেণু নষ্ট হওয়ায় ভীষণ বেকায়দায় পড়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। এ যেন ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’।

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীর পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণ থাকায় আশানুরূপ ডিম ছাড়েনি মা মাছ। সংগ্রহকারীরা গত বছরের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ ডিমও ভালোভাবে সংগ্রহ করতে পারেনি। তার ওপর ডিম ও রেণু নষ্ট হওয়ায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরো চওড়া হয়েছে। তবে আজ থেকে রেণু বিক্রি করবে বলে জানান তারা।

মাটিতে সনাতন পদ্ধতিতে কুয়ায় রেণু ফোটায় ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদার মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানি কুয়ায় ব্যবহার করায় ডিম ও রেণু নষ্ট হয়ে গেছে। যেখানে রেণু ফোটাতে গিয়ে উৎসবে মেতে ওঠার কথা সেখানে তাদের চোখেমুখে শুধুই হতাশার ছাপ। এজন্য তারা মৎস্য অধিদপ্তর ও গবেষকদের দুষছেন।

মো. ফারুক নামে এক ডিম সংগ্রহকারী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততার বিষয়টি মৎস্য অধিদপ্তর ও হালদা গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আমাদের যথাসময়ে অবহিত করেননি। বিষয়টি একদিন পরে তারা আমাদের জানান। ততক্ষণে ডিম থেকে রেণু ফোটানোর কাজে কুয়ায় লবণাক্ত পানি ব্যবহার করায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু হ্যাচারিতেও ডিম নষ্ট হয়েছে।

শনিবার (২৯ মে) দুপুরে সরেজমিন হালদারপাড় ঘুরে দেখা গেছে, রেণু ফোটানোর জন্য তৈরি ডিম সংগ্রহকারীদের অধিকাংশ মাটির কুয়ায় ডিম ও রেণু নষ্ট হয়ে গেছে।

হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’র প্রভাবে হালদা নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের লবণাক্ত পানি মাটির কুয়ায় দেওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে। এমনিতে এবার ডিম কম সংগ্রহ হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের লোকজনের মজুরি, নৌকা ও সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে পুষিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে। এরমধ্যে ধার-দেনা করে প্রতি নৌকায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এক মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু ফোটানোর কাজে কুয়ায় লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে এমনটা হয়েছে। তবে হ্যাচারিতে কোনো ডিম বা রেণু নষ্ট হয়নি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের মাছুনাঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মো শফি বলেন, রোববার (৩০ মে) থেকে রেণু বিক্রি করবো। তাছাড়া এবার ডিম কম পাওয়ায় দামও বেশি হবে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ডিম থেকে ফোটানো রেণু দ্রুত বর্ধনশীল বলে এর কদর দেশজুড়ে। বুধবার রাত থেকে পরের দিন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৩৪৩টি নৌকায় ৮০৬জন ডিমসংগ্রহকারী সাড়ে ৬ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম আহরণ করেন। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এবং সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে লবণের মাত্রাতিরিক্ত আগ্রাসনের কারণে এবার কম ডিম পাওয়া গেছে।

এদিকে শনিবার (২৯ মে) দুপুরে উপজেলার গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকায় ডিম থেকে রেণু ফোটানোর কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, রাউজানের উপজেলা কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া, হাটহাজারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফ উল্যাহ, জেলা মৎস্য অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক মাইসুরা ইয়াসমিন, রাউজানের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ আলী ।

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm