হাটবাজার নয়—অলিগলিতে গরুর জমজমাট বাণিজ্য, দাম আকাশচুম্বী

আমীর খসরু পেশায় একজন পরিবহন ব্যবসায়ী। তবে কোরবান উপলক্ষে তিনি এখন নেমেছেন গরুর ব্যবসায়। বিক্রি করার জন্য তিনি হলিশহর বড়পোল এলাকায় এনেছেন শত গরু।

শুধু বড়পোলের আমীর খসরুই নয়, এবার নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় দেখা মিলছে এমন মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীর।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ এখন জনসমাগম এড়িয়ে চলতে চাইছে। আর এই সুযোগে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ‘পোয়া বারো’। তারা উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গরু কিনে নিজ এলাকায় বিক্রি করছেন।

এবারের কোরবানের পশুর বাজার এখনো জমজমাট না হলেও নগরের অলিগলি এবং উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গরু বিক্রির ‘মিনি হাটে’ লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মূলত বেশি জনসমাগম এড়াতেই মানুষ এখন এসব বাজারমুখী হচ্ছেন। অনেকে দরকষাকষি করছেন, আবার অনেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে গরু বুকিংও দিয়ে রাখছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) নগর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

নগরে তিনটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় বাজার। এছাড়া  উপজেলাগুলোতেও বসবে একাধিক হাট।

নগরে অস্থায়ী হাট বসবে কর্ণফুলী পশুর হাট (নূরনগর হাউজিং এস্টেট), সল্টগোলা রেলক্রসিং এবং পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠে।

দেশের লালমনিরহাট, যশোর, বগুড়া, পঞ্চগড়, সিরাজগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মাদারিপুর, কু্ড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নগর ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিদিন আসছে শত শত গরুবোঝাই ট্রাক।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এবারের বাজারে সম্ভাব্য কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ৯ হাজার। এর বিপরীতে চট্টগ্রাম জেলায় স্থানীয় উৎপাদন ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪। যারমধ্যে গরু ৫ লাখ ১০ হাজার ৪০টি, মহিষ ৬৩ হাজার ১৩৬টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩টি এবং অন্যান্য পশু ৯৫টি।

হালিশহর বড়পোল এলাকায় গরু কিনতে আসা ব্যাংকার আহসান হাবিব বলেন, ভিড় এড়াতে এখান থেকে গরু কিনতে এসেছি। দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবে এখনো বাজার জমে উঠেনি বলে অগ্রিম কিছু বলা যাচ্ছে না। দরদামে মিলে গেলে আজকেই গরু কিনে বাড়ি ফিরব।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলার মৌসুমি পশু ব্যবসায়ী মিজান বলেন, মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে আমি প্রতিবছর কোরবানের জন্য গরু কিনে আনি। এসব গরু পরিচিত লোকজন ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। এবার ঠাকুরগাঁও রুহি বাজার থেকে ১০০টি গরু এনেছি। আশা করি এবার গরুর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। ব্যবসায়ও হয়ত এবার লাভ করতে পারবো।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক বলেন, কোরবানের আরও কিছুদিন বাকি আছে। আমরা আশা করছি, কোরবানের আগমুহূর্তে পরিস্থিতি ভালো হতে পারে। চট্টগ্রামে ৫২ হাজারের মতো কোরবানির পশু ঘাটতি আছে। সিরাজগঞ্জ থেকে গরু এলে এই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

তবে এবার গরুর সংকট হবে না দাবি করে তিনি আরো বলেন, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০-৬০ হাজার গরু আসে। খামারির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরু এনে চট্টগ্রামের চাহিদা পূরণ করছেন।

সিএম/ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm