জরুরি চিকিৎসায় অসম্মতি জানাতে পারবে না হাসপাতাল : হাইকোর্টের রুল

জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে কোনো হাসপাতাল অসম্মতি জানাতে পারবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে কোনও মুমূর্ষু রোগী যখনই হাসপাতালে যাবে তখনই তাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য থাকবে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে অসম্মতি জানানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার সময় এবং বিদ্যমান রেজিস্টার্ড হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করার সময় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান বিভাগ আবশ্যিকভাবে থাকতে হবে, এমন শর্ত যুক্ত করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৮৫ বছরের ‘মা’—চিকিৎসার ভার নিচ্ছেন না ‘৪ ছেলে—মেয়ে’ কেউ

আদেশে হাইকোর্ট বলেন, কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে যখনই হাসপাতাল বা ক্লিনিক অথবা চিকিৎসকদের কাছে আনা হয়, উক্ত অসুস্থ ব্যক্তির তাৎক্ষণিক জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসম্মতি জ্ঞাপন করতে পারবে না।

Thai Food

আদেশে আরও বলা হয়, যদি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এরূপ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা না থাকে সেক্ষেত্রে জরুরি সেবাসমূহ বিদ্যমান রয়েছে এমন নিকটস্থ কোনো হাসপাতালে উক্ত ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে। এছাড়া সব বেসরকারি-সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের তালিকা, জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগ রয়েছে এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর পৃথক তালিকা এবং সেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি তালিকা আগামী তিন মাসের মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

এক রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ এসেছে বলে জানান রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি বলেন, এ আদেশের ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য থাকবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম কাঁপানো সেই দুদক কর্তার ‘বদলির আদেশ’ মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার বিষয়ে এর আগে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়। বাংলাদেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান সংক্রান্ত একটি নির্ভরযোগ্য সর্বজনস্বীকৃত আইনি অবকাঠামো উন্নয়নে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং অ্যাকাডেমি অব ল অ্যান্ড পলিসি (আলাপ) যৌথভাবে রিটটি দায়ের করে।

এসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm