‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ভাগ্য খুললো জেলেদের, খুশির ডিম ছেড়েছে মা মাছ

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল ভাগ্য ফেরাল হালদাপাড়ের ডিম সংগ্রহকারীদের। প্রকৃতির আশীর্বাদে দ্বিতীয় দফায় মা মাছ ডিম ছাড়ায় হাসি চওড়া হয়েছে সংগ্রহকারীদের মুখ। তাই গতবারের চেয়ে বেশি ডিম সংগ্রহের আশা করছেন তারা।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ খ্যাত হালদা নদীতে সাধারণত পাহাড়ি ঢল, ভারী বৃষ্টি হলে এবং আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেই মা মাছ ডিম ছাড়ে। প্রথম দফায় মা মাছ ডিম ছাড়লেও ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ডিম সংগ্রহকারীদের মুখের হাসি কেড়ে নেয়। সেসময় অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ায় ডিম কম ছেড়েছিল মা মাছ, সঙ্গে পূর্ণিমার জো থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারে পানি ঢুকে পড়ে হালদায়। আর অতিরিক্ত লবণাক্ত পানির কারণে নষ্ট হয় ডিম।

কিন্তু মঙ্গলবার (১ জুন) ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল থাকায় দ্বিতীয় দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। আর তাতেই গতবারের চেয়ে বেশি ডিম সংগ্রহ করা যাবে বলে আশার বাণী শোনাচ্ছেন সংগ্রহকারীরা।

বুধবার (২ জুন) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীতে জেলেদের ডিম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সকাল পর্যন্ত তারা ডিম সংগ্রহ করবেন বলে জানান।

ডিম সংগ্রহকারী ও মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই দিন ধরে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল থাকায় হালদায় বুধবার সকাল থেকে ফের ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বিকালে নদীতে ভাটা এলে প্রচুর ডিম আটকা পড়ে জেলেদের জালে। তিন শতাধিক নৌকা নিয়ে নদীর তীরে অপেক্ষমাণ ডিম সংগ্রহকারী তখন ডিম সংগ্রহের উৎসবে মেতে ওঠেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সরেজমিন নদীর তীরে ঘুরে দেখা গেছে, হালদা নদীর অংশের আজিমের ঘাট, অংকুরি ঘোনা, গড়দুয়ারা নয়াহাট, রাম দাশ মুন্সির ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়ার মুখ এলাকায় নৌকায় বসে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছেন জেলেরা। এসময় প্রতি নৌকায় গড়ে ১-৩ বালতি (প্রতি বালতি পরিমাণ ৮-১০ লিটার) মা মাছের ডিম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকে সর্বোচ্চ ২-৩ বালতি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করেছেন।

হাটহাজারীর গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকার ডিম সংগ্রহকারী মো. কামাল উদ্দীন সওদাগর ও দক্ষিণ মাদার্শা এলাকার আশু বড়ুয়া বলেন, হালদা নদীতে দ্বিতীয় দফায় মা মাছ ডিম ছেড়েছে। আমরা নৌকা নিয়ে সকাল থেকে ডিম সংগ্রহ করছি। প্রথম দফায় আমরা তেমন ডিম পায়নি। এবার কিছু ডিম পেলে আমাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে উঠতে পারব। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে নদীতে থাকবে আমরা।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বুধবার রাতে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হালদায় গত ২৭ মে’র তুলনায় আজ (বুধবার) আরো বেশি ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গতবারের চেয়ে এবার বেশি ডিম সংগ্রহ করতে পারবেন জেলেরা।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, গত ২৭ মে প্রথম দফায় ডিম ছাড়ার সময় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে হালদার পানি প্রচুর লবণাক্ত ছিল। আবার বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় নদীতে অল্প ডিম ছাড়ে মা মাছ। তবে আজ (বুধবার) বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গতবারের চেয়ে এবার বেশি ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে প্রথম দফায় ডিম ছাড়ে মা মাছ। ওই দিন প্রায় ৩৪৩টি নৌকা ও ৮০৬ জন ডিম সংগ্রহকারী মাত্র সাড়ে ৬ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছিল। এছাড়া হ্যাচারি অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের সঠিক নির্দেশনা না থাকায় সংগ্রাহকদের অধিকাংশ ডিম লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে যায়।

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm