হঠাৎ চাকরি হারাল চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের ১১৯ করোনাযোদ্ধা

পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত

চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ ১১৯ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের ২৩ জুন বন্দর হাসপাতালে ১১৯ জন ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ীভাবে লোক নিয়োগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চলতি মাস শেষ হওয়ার পাঁচদিন আগেই হঠাৎ চাকরি থেকে সবাইকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে দিশেহারা সব করোনাযোদ্ধারা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আবু আহমেদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিনা নোটিশে আমাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমরাই। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? বন্দরে অনেক শূন্য পদ রয়েছে। সেসব শূন্য পদে আমাদের বহাল রাখার দাবি করছি।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিতে জালিয়াতি—লিখিত পরীক্ষায় পার পেলেও মৌখিকে ধরা খেল ১৫

Yakub Group

আজম নামে আরেকজন বলেন, হাসপাতালের সামনেই আমরা মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বাধা দিয়েছে পুলিশ। এজন্য আমরা প্রেসক্লাবের সামনে এসেছি। হাসপাতালের করোনা ইউনিট এখন বন্ধ রয়েছে। তাই বন্দর কর্মকর্তারা আমাদের অনেক আয়াকে তাদের বাসায় কাজ করাচ্ছেন। সময়মতো আমাদের বেতনও দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সাংসদ এমএ লতিফ ও বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি। এতেও সুরহা না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

জানা গেছে, করোনা রোগীদের সেবার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের ২৩ জুন ১১৯ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার ৭ জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৩ জন, ২০ জন স্প্রে ম্যান, কুক ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (প্যাথলজি) ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ১০ জন, ওয়ার্ড বয় ২৭ জন, আয়া ১৪ জন, নমুনা সংগ্রহকারী ২ জন, সহকারী কুক ১ জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ১ জন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২৩ জন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালক (প্রশাসন) মো. মমিনুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এনইউএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm